কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা

December 3, 2019 at 8:05 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বিজয়ের মাস আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও প্রত্যাশার। গত ৪৭ বছরে বিজয়ের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। বিশেষত গত ১১ বছরে আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে অনেক।

বিজয়ের ৪৮তম বছরে এসে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন সূচকসহ সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন আরও জোরদার হবে বলে আমরা আশাবাদী। ১৯৭১ সালে আমাদের যে প্রবৃদ্ধি ছিল, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসে সেই সামষ্টিক প্রবৃদ্ধি ৭৩ গুণ বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৫ গুণ।

৮৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে এবং ৭৫ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছে। শিক্ষার হার বেড়েছে অনেক, যদিও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে; তারপরও শিক্ষা খাতের সামগ্রিক অর্জন আশাজাগানিয়া।

প্রবৃদ্ধির হার আমাদের যেমন বেড়েছে, তেমনি বৈষম্যও বাড়ছে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সরকার বৈষম্য কমানোর জন্য গ্রোথ-ইকুইটি পদ্ধতি নিয়েছিল। বর্তমানেও বৈষম্য কমানোর দিকে নজর দিতে হবে, পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হবে।

শিল্প স্থাপন বজায় রাখা, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রবৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান গতি চালু রাখতে হবে। এছাড়া যদিও মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে বৈষম্য এড়ানো যাচ্ছে না, তবু এর লাগাম টানার চেষ্টা করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

অর্থনীতির উন্নতির চলমান ধারায় সামষ্টিক আয় বাড়ছে। সরকার বলছে, শিগগিরই প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট ছুঁবে, অর্থাৎ ১০ শতাংশ হবে। ১০ যদি নাও হয়, ৯ শতাংশ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও আমাদের প্রবৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক বাণী শোনাচ্ছে।

এটি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক। কারণ অর্থনীতির নিয়মানুযায়ী প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ হলে প্রতি পাঁচ বছরে মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়। সে হিসাবে ২০৪১ সাল নাগাদ আমাদের মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা প্রত্যাশামতো আমাদের উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাবে।

এই যে আশা-প্রত্যাশা, এগুলো হচ্ছে বিজয়ের প্রত্যক্ষ ফল। অদম্য মনোবলে স্বাধীনতা অর্জনের কারণে আজ আমরা মাথা উঁচু করে বিশ্বের দরবারে দাঁড়াতে পারছি। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীন করেছিলেন এবং তিনি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

সে দিকনির্দেশনা আমাদের সংবিধানেও রয়েছে, যাতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না থাকে। বৈষম্য করা না হয়। দারিদ্র্য অনেক আয়ত্তে এসেছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দারিদ্র্য কমছে।

বিজয়ের মাসে মনে হয়, আমরা আস্তে আস্তে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কল্যাণরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আশার বিষয় হচ্ছে, আমাদের অসাধারণ নেতৃত্ব রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাচ্ছি।

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন : অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

অনুলিখন : সাইফুল ইসলাম

Print