পুঠিয়ায় আ’লীগ নেতা ফজলুর রহমান জিউপারা ইউনিয়নে অবরুদ্ধ 

৫ ঘন্টা পর চাল বিতরন শুরু

June 13, 2018 at 1:56 pm
পুঠিয়া প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান কে ইউনিয়ন পরিষদে অবরুদ্ধ করে রেখেছে উত্তেজিত জনতা। বুধরার ফজলুর রহমান ভিজিএফ এর চাল বিতরন বন্ধ করে রাখলে ইউনিয়নের হাজার হাজার দড়িদ্র জনগন ভোগান্তির স্বীকার হলে উত্তেজিত জনতা তাকে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতর অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।
বুধবার ১৩ মে বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত পর্যন্ত ফজলুর রহমান জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ অবস্থায় অবস্থান করছেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে উত্তেজিত জনতা ওই কক্ষটি ঘিরে রাখে।
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ফজলুর রহমানের মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। এতে চাল দিতে বিলম্ব হওয়ায় চাল নিতে আসা দুস্থ ব্যক্তিরা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে অভিযোগ অসত্য প্রমানিত হওয়ায় উত্তেজিত জনতা দেড় ঘন্টা অরুদ্ধ করে রাখেন আ’লীগ সভাপতি ফজলুর রহমানকে। পরে তিনি ভুল স্বীকার করেন। পরে ৫ ঘন্টা পর দুপুর ১ টায় চাল বিতরন শুরু হয়। এতে দুর দুরান্ত থেকে চাল নিতে আসা হাজারো দুস্থ মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হয়।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ৮ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে এসে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভিজিএফ’র চাল বিতরনে অনিয়মের কাল্পনিক অভিযোগ এনে চাল বিতরন কার্যক্রম স্থগিত করেন।
এ সময় ফজলুর রহমান সেখানে বলেন, আমাকে না জানিয়ে চাল বিতরন করার সাহস কে দিয়েছে ? কিভাবে চাল বিতরন করা হয় আমি সেটাই দেখে ছাড়বো। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্পবা বস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেন। তবে ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, চাল দেয়ার ব্যপারে সকালে ফোন করে সভাপতিসহ সবাইকে জানানো হয়েছে এবং চাল বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ফজলুর রহমান ইউনিয়ন পরিষদে আসেন এসময় চাল নিতে আসা সকল মানুষ তাকে ঘিরে ধরে পরে তাৎক্ষনাত সেখান থেকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে গেলে সেখানে তাকে প্রায় দেড় ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আল ওয়াদুদের উপস্থিতিতে ফজলুর রহমানের অভিযোগের ব্যপারে সত্যতা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ অপোষের পর দুপুর ১ টার দিকে জিউপাড়া ইউনিয়নে ভিজিএফ’র চার বিতরণ শুরু হয়। চাল দিতে বিলম্ব হওয়ায় রোদের মধ্যে দুর দুরান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হয়ে বসে ছিলেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘন্টা জিউপাড়া ইউনিয়নে চাল বিতরন বন্ধ রেখে ভোগান্তির সৃষ্টি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আ’লীগের নেতারাও।
তারা বলেন, এ নেতার কারনে দলের ভাবমূর্তী নষ্ট হচ্ছে। এব্যপারে জানতে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ফজলুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাল বিতরন বন্ধের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কে বলেছে আমি চাল বিতরণ বন্ধ করেছি ? তার নাম আমাকে বলেন, অথবা তাকে প্রমান করতে বলেন। তিনি বলেন, চাল বিতরনে অনিয়ম হচ্ছে আমি এর প্রতিবাদ করেছি মাত্র।
এব্যপারে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আল ওয়াদুদকে ফোন করলে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত রেশ থেকেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংশা করা হয়েছে। বর্তমানে দুপুর ১ টা থেকে চাল বিতরন শুরু হয়েছে।
অবরুদ্ধ করে রাখার ব্যপারে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরের একটি কক্ষে ইউপি সদস্য ও ফজলুর রহমানকে নিয়ে আলোচনা চলছিলো।
স/আ
Print