রহমানিয়ার চার প্রজন্ম ধরে রেখেছে ‘দিল্লির শাহী ফিরনি’র ঐতিহ্য

May 18, 2018 at 4:45 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী নগরীর রহমানিয়া হোটেলের ঐতিহ্য ‘দিল্লির শাহী ফিরনি’। রোজাদারদের রসনার তৃপ্তি মেটাতে যুগযুগ ধরে সমান জনপ্রিয় এ ফিরনি। এবারো তাই রোজাদারদের পছন্দের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে এর অবস্থান। আর তাই তো ৬৭ বছর ধরে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারো রহমানিয়া হোটেল তাদের ইফতারের দ্রব্য তালিকায় শাহী ফিরনি ভোক্তাদের কাছে উপস্থাপন করেছেন।

গরুর খাঁটি দুধ, কহিনীর চালের গুঁড়া, কাজু বাদাম, কিসমিস, চেরিফলসহ বিভিন্ন উপাদান দিয়ে এ ফিরনি তৈরি হয়। এরপর মাটির পেয়ালায় জমিয়ে রেখে পরে তা বিক্রি করা হয়। তবে আগে প্রতিদিন পাওয়া গেলেও বর্তমানে রমজান ও বিশেষ অর্ডার ছাড়া এ শাহী ফিরনি তৈরি করা হয় না। রোজাদারদের মাঝে এর চাহিদাও প্রচুর।

রহমানিয়া হোটেলের স্বত্ত্বাধিকারী রিয়াজ আহমেদ খান জানান, ১৯৫১ সালের কোন এক সময় ভারত থেকে সুস্বাদু এ খাবারটি রাজশাহীতে নিয়ে এসে প্রচলন শুরু করেন তার দাদা আনিসুর রহমান খান। গণকপাড়ার ওই দোকানেই ছোট পরিসরে শাহী ফিরনি প্রস্তুত শুরু করেছিলেন। এরপর তাতে হাত দেন বাবা হাজি আব্দুল বারী খান। শুরু থেকেই শাহী ফিরনী রাজশাহীবাসীর মন জয় করে নেয়। এরপর ধীরে ধীরে তাদের হোটেল ব্যবসার প্রসার হয়। নামডাক ছড়াতে থাকে এই শাহী ফিরনির। চার প্রজন্মের ঐতিহ্য ধরে রেখেই তারা এখনো শাহী ফিরনি বিক্রি করছেন।

রিয়াজ আহমেদ খানের ভাই শাহাবাজ আহমেদ খান বলেন, পূর্বে এই ফিরনি সকালের নাস্তায় ব্যবহৃত হতো। বছর গড়াতে থাকলে সেই কারিগরগুলো মারা যাবার কারণে এর ব্যবহারটা কমে যায়। এরপর আমরা রমজান মাসে স্পেশাল এই ফিরনি তৈরী করি। আমাদের এই ফিরনি রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে এসে লোকজন নিয়ে যায়। শুধু তাই-ই না কুরিয়ারের মাধ্যমে অনেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠায়। বর্তমানে আমাদের চার প্রজন্ম চলছে এই ফিরনি প্রস্তুতে । আমরা চাই আমাদের পরবর্তী প্রজন্মগুলোও যেন এই ফিরনি তৈরী করতে থাকে।

তিনি আরো জানান, রোজায় তারা যে সব ইফতারীর পসরা সাজান তার মধ্যে শাহী ফিরনি সব চেয়ে ঐতিহ্যবাহী। স্বাদ ও গুণে অতুলীয় এ ফিরনি শুরুর দিকে ছয় আনা দামে বিক্রি হয়েছে। তবে এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৫টাকায়। প্রতিদিনের ইফতারের টেবিলে মাটির পেয়ালা ভরা এ ফিরনিই রোজাদারদের সেরা আকর্ষণ।

স/শ

Print