চেয়ারম্যান ছেলে হত্যার পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার না হওয়ায় মায়ের সংবাদ সম্মেলন

December 7, 2016 at 4:59 pm

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
আর মাত্র এক মিনিট মোটরসাইকেল চালালেই বাড়ি পৌঁছতেন জয়পুরহাটের ভাদসা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান একে আজাদ। গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছিল নিহত আজাদের মা। কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে মা চিৎকার দিয়ে অন্য ছেলেদের বলেছিল ’আমার আজাদকে গুলি করেছে, তোরা দেখ’। মায়ের সেই সেদিনের আশংকা সত্যি হয়েছিল। বাড়ি থেকে মাত্র ৫শ’গজ দুরে গত ৪ জুন আজাদকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছিল সন্ত্রাসীরা।

 
মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া ও ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল ৮দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। কান্নাজড়িত কন্ঠে ঘটনার বিবরন দেন নিহত আজাদের মা সাহারা বেগম। হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারীসহ সকল আসামীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বুধবার জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাহারা বেগম।

 
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ওইদিনের ঘটনায় চলতি বছরের ৫জুন ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়। মামলা পরবর্তী পুলিশ ৫জনকে গ্রেফতার করেছিল তার মধ্যে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে সোহেল ও মনির নামে ২’জন নিহত হয়। বাকি ৩ আসামী সাদ্দাম, হাকিম ও সৈকত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়।

 
জবানবন্দিতে আসামীরা এই হত্যা কান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসাবে ভাদসা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং একে আজাদের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী হাতেম আলী মন্ডলের নাম উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী মুন্না পারভেজকে ঢাকা থেকে র‌্যাব গ্রেফতার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সেও এ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারি হিসাবে হাতেম আলীর নাম উল্লেখ করেন। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশিত হয়।

 
পুলিশ প্রশাসন সব জেনেও মুল পরিকল্পনাকারী ও অন্য আসামীদের গ্রেফতার করছেনা। এমনকি আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে হাতেম আলী ৩নং ওয়ার্ড থেকে সদস্য প্রার্থী হয়েছেন। এতে আওয়ামীলীগের ভাবমুর্তি যেমন ক্ষুন্ন হয়েছে তেমনি নিহত আজাদের পরিবার নতুন করে আতংকিত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

 
লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষীদের অতিসত্বর গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানানো হয়। আসামীদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত না হলে পরবর্তীতে আন্দোলনে যাওয়ার কথাও বলা হয় সম্মেলনে।

 
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিহত আজাদের বড় ভাই আব্দুল হাই মুকুল মাস্টার, ছোট ভাই ভাদসা ইউনিয়নের উপ নির্বাচনে নির্বাচিত চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন স্বাধীন, ভাতিজা আবু ওমামা সুরাকা, ভাতিজি নাইম তাহশীন শিমু।

স/শ

Print