পুঠিয়ায় রাস্তা লিজ নিয়ে বাড়ি, বিলে নামতে পারছেন না এক হাজার কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি সরকারি রাস্তা লিজ দেওয়ায় জমিতে নামতে পারছেন না এক হাজার কৃষক। রাস্তাটি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করায় ২০০ একর জমির ফসল তুলতেও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয় কৃষক ও দখলকারীর মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

লিজ বাতিল চেয়ে এলাকাবাসী দফায় দফায় আবেদনও করেছেন জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের দপ্তরে। কিন্তু এখনো এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে কৃষদের মাঝে উত্তেজনাও কমেনি। এরই মধ্যে গত ৯ জানুয়ারি দখলদার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ও বেলপুকুর ইউনিয়নের ধলাট করমপুর গ্রামের বিলে যাওয়ার জন্য ৩৫ শতাংশ জমি সরকারের নিকট থেকে ২০০০ সালে লিজ নেন তাঁদের বাবা পলান মণ্ডল। রাস্তার জমিটি শ্রেণি পরবির্তন করে কৃষি জমি দেখিয়ে লিজ দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর ধরে দখল করে আছেন ওই গ্রামের পলান মণ্ডলের ছেলে শাহাদত হোসেন ও তার ভাই আলতাফ হোসেন।

এরপর গত বছর শাহাদত হোসেন বিলে নামার প্রবেশমুখে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। এতে কৃষকদের বিলে নামতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আবার বিলের ২০০ একর জমির পানি নিস্কাশনেও সমস্যা হচ্ছে। এ নিয়ে গ্রামবাসীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ গত বুধবার উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে বেলপুকুর থানায় অভিযোগও করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় জয়নাল আলী বলেন, ‘ওই লিজ বাতিলের দাবিতে স্থানীয় কৃষকরা রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে ২০১৭ সালেই আবেদন করেন। তদন্ত করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে লিজ বাতিলের জন্য সুপারিশও করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, এই রাস্তাকে ঘিরে প্রায় ২০০ একর জমি রয়েছে। বিলে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেন প্রায় হাজার খানে কৃষক। কিন্তু রাস্তার শুরুতেই বাড়ি নির্মাণ করায় এলাকাবাসীর বিলে নামতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। খেতের ফসল ঘরে তুলতেও সমস্যা হচ্ছে।’

এবিষয়ে স্থানীয় ইউনিয় পরিষদের সদস্য আবদুল মালেক বলেন, বিভিন্ন সময় এনিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। একটা ডহর (রাস্তা) কিভাবে ভূমি অফিস লিজ দিলো সেটার এলাকাবাসী জানেন না। তবে এটা জনগণের রাস্তা। সেটাই বহল থাকুক।

জানতে চাইলে শাহাদাত বলেন, ‘জমিটি সরকারের নিকট লিজ নিয়ে আমরা সেখানে বাড়ি করেছি। কিন্তু এলাকাবাসী বিলে নামতে পারছেন না বলে আমাদেরকেই নানাভাবে হয়রানি করছে। আমরা কাউকে হয়রানি করিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের বেকায়দায় ফেলে কাউকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। রাস্তার যায়গা কিভাবে লিজ দেওয়া হলো সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।’

Print