১২ তারিখে বেগম জিয়ার জামিন না হলে কঠোর আন্দোলন: বুলবুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের দল, মুক্তিযোদ্ধার দল, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি সুশৃংখল দল। এই দলের যে কোন সময় মাঠে নেমে আন্দোলন করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু বিএনপি আইনকে শ্রদ্ধা করে। গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে। সেহেতু গণতান্ত্রীকভাবেই এপর্যন্ত আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু ১২ তারিখে বেগম জিয়ার জামিন না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করা হবে জানান তিনি। বেগম জিয়া, গণতন্ত্র ও দেশের জণগনের মুক্তির মুক্তির আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সকল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহবানও জানান তিনি।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর মালোপাড়া সংলগ্ন মহানগর বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আপিল বিভাগের নির্দেশনা সত্ত্বেও মেডিকেল রিপোর্ট না দেওয়ার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাজশাহী মহানগর জাতীয়তাবাদী দল ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৮ ও ১০১৪সালে ভোট চুরি ও ২০১৯ সালে ডে-নাইট ভোট ডাকাতী করে ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের সমর্থন না নিয়ে সরকার গঠন করায় এখন আইন শৃংখলা বাহিনী ও পার্শবর্তী রাষ্ট্রের তাবেদারী করছে এই সরকার।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে অচিরেই জেলখানা ডাকছে মন্তব্য করে বুলবুল বলেন, দেশে যে ভাবে হত্যা, গুম, ধর্ষন, অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও নিত্যা প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে সরকার প্রধানের নিস্তার নাই। জনগণই তাঁর বিচার করবে।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

এসময় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলন বলেন, সরকার দেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। দেশে মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে সেদিকে কোন খেয়াল নেই সরকারের। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে না মেনে সরকার গঠন করেছে এ সরকার। এটা জনগণের সরকার না।

তিনি বলেন, ১২ তারিখ যদি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া না হয়, তবে এ দেশের মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা করবে।

এছাড়া জেলা মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপডতি শফিউল আলম বুলু, বিএনপি’র সদস্য সৈয়দ মহসিন আলী, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি শতকত আলী, মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউল হক রানা, জেলা বিএনপি’র সদস্য অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন উজ্জল, আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান আলী, কৃষকদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পিন্টু, পবা বিএনপি’র আহবায়ক সেলিম রেজা বাচ্চু। শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জামান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, মতিহার থানা বিএনপি’র সভাপতি আনসার আলী, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন, মতিহার থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ডিকেন।

মহানগর যুবদলের সভাপতি আবাুল কালাম আজাদ সুইট, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, মহানগর তাঁতী দলের সভাপতি আরিফুল শেখ বনি, মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান টিটু ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউজ্জামান পরাগ, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট রওশন আরা পপি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সামসাদ বেগম মিতালী, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক সামসুন্নাহার, নুরুন্নাহার, মুসলেমা বেলী, গুলশান আরা মমতা, রোজি ও জরিনা, মহিলা নেত্রী রীতা, মহানগর ছাত্র দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি, নাহিন আহম্মেদ, রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ রাহী ও জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম কুসুমসহ মহানগর, থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করেন যুবদল নেতারা। কিন্তু পুলিশি বাধায় মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনেই বসে পড়েন নেতাকর্মীরা। সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

স/শা

Print