উপকূলে রাডার: ভারতের প্রযুক্তি দিয়ে কার ওপর নজরদারি করা হবে?

October 9, 2019 at 2:01 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের উপকূলে ভারতের যে রেডার সিস্টেম বসাতে দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, তার ধরণ এবং ব্যবহার কী হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে দু’শের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন সমুদ্রপথে আসা বিভিন্ন ধরণের হুমকি মোকাবেলায় এই রেডার ব্যবস্থা দু’দেশের জন্যই কার্যকরী হবে

অন্যদিকে, ঢাকা এবং দিল্লির মধ্যে এই সহযোগিতা চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ভারত অতীতে মরিশাস, সেশেলস এবং মালদ্বীপে এ ধরণের রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। মিয়ানমারে একই ধরণের ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য আলোচনা চলছে।।

সমুদ্রপথে চীনের সামরিক গতিবিধি নজরে রাখার জন্য ভারত এই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বলে অনেকে মনে করেন। তবে অন্যরা এই ব্যাখ্যাকে ‘ভয় বিক্রির চেষ্টা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।

দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডে রেডার প্রযুক্তি প্রদর্শন, ২৬-০১-১৯৯৭।
প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেড: দিল্লিতে বিভিন্ন ধরনের রেডার প্রদর্শন (ফাইল ফটো)।

কার নিয়ন্ত্রণে রেডার?

সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে যৌথভাবে একটি ‘কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স’ বা উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।

তবে এই রেডার উপকূলের কোথায় স্থাপন করা হবে কিংবা এই ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্বে কারা থাকবে সে বিষয় এখনো অস্পষ্ট।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা  বলেছেন, রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের পর তার পরিচালনার দায়িত্বে কারা থাকবে সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রেডার পরিচালনায় শুধুমাত্র বাংলাদেশের লোকবল ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু ,ভারতের পক্ষ থেকে যৌথ লোকবল ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে আলোচনা এখনো চলছে। কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।”।

তবে ভারতের নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এবং দিল্লির সোসাইটি ফর পলিসি স্টাডিজের পরিচালক কমোডোর উদয় ভাস্কর বলেন, এ ধরণের প্রকল্পে রেডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে লোকবল সাধারণত যৌথভাবেই সরবরাহ করা হয়।

এক্ষেত্রে মরিশাস ও মালদ্বীপে রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের উদাহরণ তুলে ধরেন মি. ভাস্কর।

মি. ভাস্কর বলেন, ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোকে উন্নত নজরদারিতে সক্ষমতা বাড়াতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। যার অংশ হিসেবে মরিশাস, সেশেলস, মালদ্বীপে রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় যৌথ নজরদারির জন্য রেডার ব্যবস্থা স্থাপনে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে ভারত ও বাংলাদেশ
বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় যৌথ নজরদারির জন্য রেডার ব্যবস্থা স্থাপনে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে ভারত ও বাংলাদেশ

ভারতীয় প্রযুক্তি

রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করতে যে সব প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার হয় তার পুরোটাই ভারত থেকে সরবরাহ করা হবে।

মি. ভাস্কর বলেন, “দ্বিপক্ষীয় চুক্তির অংশ হিসেবে এই মুহূর্তে ভারত রেডার এবং অন্যান্য হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রপাতি যা দরকার হবে তার সবকিছুই সরবরাহ করবে। আর এসব ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে”।

“রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের পর একটি প্রসারণ কেন্দ্র বা ডিফিউশন সেন্টার তৈরি করা হবে। যেখানে সব দেশ তাদের সামুদ্রিক নজরদারি সম্পর্কে (ইনপুট ডোমেইন অ্যায়ারনেস) তথ্য দেবে।”

এ ধরণের একটি কেন্দ্র দিল্লির কাছে গুরুগাম নামে জায়গায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের নজরদারির সুযোগ

মি. ভাস্কর বলেন, রেডার ব্যবস্থা বঙ্গোপসাগরে কী ধরণের কার্যক্রম হচ্ছে তার উপর নজরদারি করতে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতকেও সুযোগ দেবে।

বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে নজরদারি বাংলাদেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সেসব এলাকায় নজরদারি সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কে মিস্টার ভাস্কর বলেন, অপরাধমূলক যেকোন ধরণের কর্মকাণ্ড এই নজরদারির আওতায় আসবে এবং এ সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করা হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হতে পারে সাগরে অবৈধ মাছ ধরার বিষয়ে তথ্য বিনিময়।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ, ভারত এবং মিয়ানমারের জেলেদের কাছে মাছ ধরার উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ট্রলার বা নৌযান না থাকার কারণে গভীর সমুদ্রে যেতে পারে না তারা। আর এই সুযোগ নেয় বিদেশি জেলেরা, যা কাঙ্ক্ষিত নয়। এগুলো স্থানীয় জেলেদের নিরাপত্তার জন্য বাধা বটে। এগুলো নজরদারি করা হবে”।

জুন মাসে মালদ্বীপ সফরে গিয়েও একটি কোস্টাল রেডার সিস্টেমের উদ্বোধন করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
জুন মাসে মালদ্বীপ সফরে গিয়ে একটি কোস্টাল রেডার সিস্টেমের উদ্বোধন করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

হুমকির মুখে উপকূল?

বাংলাদেশের উপকূলে অবৈধভাবে মাছ ধরার নৌযান অনুপ্রবেশ ছাড়া আর কোন বড় ধরণের হুমকি সাধারণত এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সাগরে পাইরেসি বা জলদস্যুদের একটা হুমকির কথা বলা হলেও তা এ অঞ্চলে খুব কম বলে জানান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে রয়েছে পাইরেসি বা দস্যুতা, বিশেষ করে বন্দর এলাকায় চুরি ও ডাকাতি বড় সমস্যা।

মি. আহমেদ  বলেন, ”এছাড়া বেআইনিভাবে মাছ শিকার, প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি, বিদেশি ট্রলারের অনুপ্রবেশ ও অবৈধ মাছ শিকার, বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই দেখা যায়”।

”এসব বিষয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তবে দূরবর্তী হুমকি, যেমন: বিদেশি আগ্রাসী শক্তি। তবে আজকাল এ ধরণের হুমকির চিন্তা কেউ করে না যে এ ধরণের আশঙ্কা রয়েছে। তবে দুদেশের সীমান্ত যে এলাকা রয়েছে সেখানে কিছুটা হুমকি থাকতে পারে”।

“এছাড়া রয়েছে, অবৈধ পণ্যের পাচার, মাদক, অস্ত্র এবং মানব পাচারও হয়ে থাকে মাঝে মাঝে সাগর পথে।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বাইরের দেশের কিছু মাছ ধরার নৌযান বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের উপকূলে অনুপ্রবেশ করে যা নৌবাহিনী আটক করে। থাইল্যান্ড থেকে এসব নৌযান বেশি আসে। তবে মিয়ানমারের নৌযানও মাঝে মাঝে আসে।”

এছাড়া আর বড় ধরণের কোন হুমকি এখনো রিপোর্টেড হয়নি এবং আসবে বলেও মনে হয় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গভীর সাগুরে মাছ ধরার নৌযানে নজরদারি সম্ভব হবে রেডার ব্যবস্থার মাধ্যমে
গভীর সাগরে মাছ ধরার নৌযানে নজরদারি সম্ভব হবে রেডার ব্যবস্থার মাধ্যমে

‘ভয় বিক্রির চেষ্টা’

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেআইনিভাবে চলাচলকারী জাহাজ ও নৌযানের উপর নজরদারি করা সম্ভব হবে এই ব্যবস্থায়।

বিভিন্ন দেশের জাহাজ যারা আইনসম্মতভাবে চলাচল করে কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ না থাকলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। এই ব্যবস্থায় এ ধরণের পরিস্থিতি এড়িয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করা সম্ভব হবে।

মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, “তবে কেউ যদি মনে করে যে, বাইরে থেকে কোন যুদ্ধজাহাজ আসলো কিনা, এ ধরণের ঘটনা খুব একটা ঘটে না। আর ঘটলেও তারা বলে কয়ে আসে, লুকিয়ে-চুরিয়ে আসা খুব একটা ঘটে না”।

মি. আহমেদ বলেন, ভারত-বাংলাদেশ মিলে অন্য দেশের এ ধরণের জাহাজ আসা ঠেকিয়ে দেবে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ এটা আসলে খুবই দূরবর্তী একটা চিন্তা।

চীনের উপর নজরদারি বিষয়ে মি. আহমেদ বলেন, চীন এ অঞ্চলে তেমন আসে না। কিছু মানুষ ভয় বিক্রির চেষ্টা করছে এ ধরণের মন্তব্য করে।

তিনি বলছেন, “এ অঞ্চলে ভারতের এবং মিয়ানমারের যুদ্ধ জাহাজ আসা-যাওয়ার ঘটনাই বেশি। অন্য কেউ এলেও জানিয়ে আসে, অতিথি বা বন্ধুত্বপূর্ণ সফরে আসে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য সেগুলো হতে পারে। তবে হলেও খুব কার্যকরী হবে বলে আমি মনে করি না”।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা বাহিনীর বিমানবাহী জাহাজসহ মহড়া, এপ্রিল ২০১৮।
নতুন পরাশক্তি: দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা বাহিনীর বিমানবাহী জাহাজসহ মহড়া।

লক্ষ্য চীন?

তবে আরেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. সাখাওয়াত হোসেন ভিন্ন মত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এধরণের রেডার শুধু বাংলাদেশ নয় বরং মরিশাস ও সেশেলস-সহ আরো কয়েকটি দেশে বসিয়েছে।

”আন্দামানে ভারত একটি নেভাল এয়ারবেজ করেছে। এই দ্বীপপুঞ্জটি চীনের জাহাজগুলো মিয়ানমারে আসার পথের খুব কাছাকাছিতে অবস্থিত। আর তাই আসলে চীনের গতিবিধি নজরদারিতে আনার জন্য ভারত সেই সেশেলস থেকে এটা করে আসছে”।

মালবাহী জাহাজের চলাচল ছাড়া অন্যান্য জাহাজের গতিবিধির উপরও নজরদারি করা হবে বলে তিনি মনে করেন।

তার মতে, ”ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র উঠতি শক্তি হিসেবে যে একটি কৌশলগত প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে তার একটি উপাদান হতে পারে এটি”।

জেনারেল হোসেন বলেন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান মিলে বঙ্গোপসাগরে একটি আন্ডার-ওয়াটার সারভেইল্যান্স সিস্টেম বা পানির নিচে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। এই নজরদারি ব্যবস্থা যুক্ত হবে কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের সাথে।

”তাই সহজেই বলা যায় যে এর মূল উপলক্ষ চীন”।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেডার ব্যবস্থার মাধ্যমে সাগরে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ করা সম্ভব হবে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেডার ব্যবস্থার মাধ্যমে সাগরে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কে প্রভাব

এই পদক্ষেপ চীনের সাথে বাংলাদেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, ডোকলাম ও অরুণাচলে ভারত-চীন যে সামরিক প্রতিযোগিতা চলছে তার অংশ হিসেবে সে অঞ্চলে এক ধরণের সামরিক কোর তৈরি করেছে ভারত। বঙ্গোপসাগরেও একই ধরণের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই জায়গাতে গিয়ে আমরা চীন-ভারতের কৌশলগত টানাপোড়েনের মধ্যে পরে যাচ্ছি”।

তিন দিকে পরমাণু শক্তিধর তিন রাষ্ট্র ভারত-পাকিস্তান-চীন দ্বারা বেষ্টিত হয়ে এ ধরণের টানাপোড়েনের জড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের চিন্তার অবকাশ আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মি. হোসেন বলেন, “এ ঘটনাকে চীন অবশ্যই নেতিবাচক ভাবে নেবে। চীন যেহেতু দেরিতে প্রতিক্রিয়া দেয়, অর্থাৎ তারা অ্যাকশনে রিয়্যাকশন করে, তাই তারা কী প্রতিক্রিয়া দেবে তা বলা মুশকিল হলেও এই পদক্ষেপে চীন খুব খুশি হবে বলে আমি মনে করি না।”

ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এই রেডার সিস্টেম কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে মি. ভাস্কর বলেন, “প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা শুধু ভারত নয় বরং বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে”।

একই প্রসঙ্গে ভারতের আরেক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল দীপঙ্কর ব্যানার্জি বলেন, “এটা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কিছুটা হয়তোও শক্তিশালী করলো বা এখন যা বন্দোবস্ত আছে তার সাথে কিছুটা হয়তো যুক্ত হলো”।

তবে এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাকে জোরদার করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেনারেল ব্যানার্জি বলছেন, “আসল নজরদারির বিষয়টি রেডার নয় বরং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে করা হয়”।

তথ্য বিনিময়

সরকারের সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একে অপরের সাথে বিভিন্ন ধরণের তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে এ অঞ্চলের দেশগুলো। এ ক্ষেত্রে কোন ধরণের সন্ত্রাসী হামলার হুমকি থাকলে সে সম্পর্কিত তথ্য গুলোও বিনিময় করা হয়।

রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের পর কোন ধরণের সন্ত্রাসী হামলার হুমকি সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোও বিনিময় করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে রেডার ব্যবস্থা স্থাপনের পর যেসব তথ্য বিনিময় করা হবে তার মধ্যে হোয়াইট শিপিং বা বৈধভাবে পণ্য পরিবহনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিষয়েই সবচেয়ে বেশি তথ্য থাকবে।

তবে সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে যে, সমুদ্রপথে কোন ধরণের সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টা সম্পর্কেও আগে ভাগেই জানা যাবে এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে।

উদাহরণ হিসেবে যেখানে বলা হয় যে, মুম্বাই হামলার মতো কোন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হলে সে সম্পর্কেও আগে থেকেই খবর পাওয়া যাবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে।

Print