স্বশাসিত সংস্থার উদ্বৃত্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে: জমা দিতে হবে প্রতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই

September 20, 2019 at 4:27 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থার উদ্বৃত্ত অর্থ প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।

কোনো সংস্থা তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ সম্পর্কে সরকারকে ভুল তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে।

এমন বিধান রেখে ‘স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন-২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনটি শিগগিরই বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

আইনটির খসড়ায় ‘উদ্বৃত্ত অর্থ’ বলতে বোঝানো হয়েছে- ‘তফসিলভুক্ত কোনো সংস্থার বার্ষিক পরিচালন ব্যয়, নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বার্ষিক ব্যয় এবং বার্ষিক পরিচালন ব্যয়ের ২৫ শতাংশের (আপৎকালীন ব্যয়) অতিরিক্ত অর্থ।’ প্রস্তাবিত আইনটিকে বিদ্যমান যে কোনো আইনের ওপর প্রাধান্য দিতে খসড়ায় বলা হয়েছে, উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার ক্ষেত্রে অন্য যে কোনো আইন বা আইনের বিধান যদি এই আইনের বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেই আইন বা আইনের বিধান যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্র্ণ, ততখানি অকার্যকর বলে গণ্য হবে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়, প্রতি অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে ওই অর্থবছরের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের তহবিল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়ার দণ্ড প্রসঙ্গে আইনের ৬ ধারায় বলা হয়- কোনো সংস্থা তহবিলে রক্ষিত অর্থ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না দিলে, সরকার ওই সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, প্রতি অর্থবছর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের উদ্বৃত্ত অর্থের পরিমাণ জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হবে। এসব চিঠির জবাবে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তহবিল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে এই ভুল তথ্যের কারণে রাষ্ট্রের ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হতে পারে।

জানা গেছে, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্বশাসিত ৬৮ সংস্থার উদ্বৃত্ত ২ লাখ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ ‘অলস’ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে জমা আছে। এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিতে ২ সেপ্টেম্বর ওইসব সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন, ২০১৯’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আইনটি চূড়ান্ত হলে ওইসব স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় টাকা রেখে বাকি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা নেয়া হবে। এই টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে আছে। এই টাকাগুলো কোনো ভালো কাজে ইনভেস্ট হচ্ছে না।

এজন্য সরকারের পলিসি হল- নতুন আইনের মাধ্যমে কিছু প্রভিশন রেখে বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়ে আসা। আমাদের অনেক প্রজেক্ট, জনকল্যাণমূলক কাজ আছে, যেগুলো আর্থিক সংকটের কারণে ফাইন্যান্স করা যায় না। সেখানে এসব টাকা ব্যয় করা হবে। এসব সংস্থা চালাতে যে খরচ হয় এবং নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে যে অর্থ লাগে, তা তাদের নিজস্ব তহবিলে জমা রাখা হবে। তাছাড়া আপৎকালীন ব্যয় নির্বাহের জন্য পরিচালন ব্যয়ের আরও ২৫ শতাংশ অর্থ এসব সংস্থা সংরক্ষণ করতে পারবে। ওই সংস্থার কর্মীদের পেনশন বা প্রভিডেন্ড ফান্ডের অর্থও তারা সংরক্ষণ করবে। এরপর যে অর্থ বাকি থাকবে, সেটা সরকারের কোষাগারে জমা দেবে। অর্থাৎ ওনাদের বিপদে ফেলা হবে না, ওনাদের প্রয়োজনীয় অর্থ রেখে বাকিটা দেবে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসনে ‘কোনো সমস্যা হবে না’ মন্তব্য করে মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, আর্থিক ডিসিপ্লিনেও কোনো সমস্যা হবে না। এটা হচ্ছে ওনাদের যে আইডল মানি আছে, তা সরকারের ইনভেস্টমেন্টে কাজে লাগানো। আইনি অধিকারও ক্ষুণ্ণ করা হয়নি, ওনাদের যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা তো সরকার দিচ্ছে। পরিচালন ব্যয় হিসেবে কোন সংস্থা কত টাকা রাখবে, তা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করবে। তিনি আরও বলেন, আকারে ছোট হলেও ধরনের দিক দিয়ে এ আইন হবে ‘সুপারসিডিং’।

অর্থাৎ, অন্যান্য কর্পোরেশনের আইনে যা-ই বলা থাকুক না কেন, তার ওপরও এ আইনের বিধান কার্যকর হবে।’ ২৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ২১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা (মে ২০১৯ এর তথ্য), পেট্রোবাংলার ১৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, পিডিবির ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম বন্দরের ৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা, রাজউকের ৪ হাজার ৩০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত আছে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বাদ দিলে এরকম ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা এরই মধ্যে করা হয়েছে বলে তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। এর মধ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ তালিকায় শিক্ষা বোর্ডগুলো রয়েছে। তাদের অনেক অলস টাকা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উদ্বৃত্ত ৪২৫ কোটি টাকা রয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ২ হাজার ২৩২ কোটি টাকা।

Print