ক্যাসিনোর কোটি কোটি টাকা বিদেশ পাচার করেন যুবলীগের খালেদ

September 20, 2019 at 4:24 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ঢাকা মহানগর যুবলীগের আলোচিত নেতা খালেদা মাহমুদ ভূঁইয়া অবৈধভাবে ক্যাসিনো পরিচালনা করে মাসে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। এই টাকা বিদেশে পাচার করেছেন তিনি। জুয়ার টাকার বড় ভাগ প্রতি মাসে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা, যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা এবং প্রশাসনকেও দিতে হতো খালেদকে। র্যা বকে দেয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন ক্যাসিনো খালেদ।

রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো মালিক যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে বুধবার রাতে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার করে র্যা ব। এর পর আদালতে তোলার আগ পর্যন্ত তিনি র্যা ব ৩-এর হেফাজতে ছিলেন। এসব প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেদের কাছে ক্যাসিনো ব্যবসায় আর কারা জড়িত সে বিষয়ে জানতে চায় র্যা ব।

র্যা বের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ জানিয়েছেন, ক্যাসিনো ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করে আয় করা কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব টাকা পাচার করেছেন তিনি।

তবে কত টাকা তিনি পাচার করেছেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।

সূত্র জানায়, যুবলীগ নেতা খালেদ র্যা বকে ক্যাসিনোয় ব্যবসায় জড়িতদের নাম বলেছেন। তিনি যাদের নাম বলেছেন, তাদের মধ্যে বিদেশে অবস্থানকারী আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী এবং রাজিনীতিবিদও রয়েছেন। প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের ম্যানেজ করেই ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন খালেদ।

যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে ক্যাসিনো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন বলেও জানিয়েছেন খালেদ। তার দেয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছে র্যা ব।

র্যা ব জানায়, খালেদ তাদের কাছে দাবি করেছেন- প্রতিটি ক্যাসিনোতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হতো। লাভের অংশের টাকা তিনি প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

কাউকে কাউকে তিনি গাড়িও উপহার দিয়েছেন। অনেককে দামি মোবাইল ফোনও উপহার দিয়েছেন। পুলিশের ডিসি থেকে ওসি পর্যন্ত মাসিক ভিত্তিতে টাকার ভাগ পৌঁছে দিতেন বলেও জানান।

পুলিশের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত তার ক্যাসিনো ব্যবসার কথা জানত। ক্যাসিনোর অর্থ তিনি বিদেশে অবস্থানকারী আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের কাছেও পৌঁছে দিতেন।

মগবাজার এলাকার একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী নাজির আরমান নাদিম ও শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হয়ে তিনি ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাদের তিনি ঢাকা থেকে অর্থ পাঠাতেন।

বুধবার রাতে দীর্ঘ অভিযান শেষে গুলশানের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে র্যা ব। এ সময় অস্ত্র, গুলি, মাদকসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর পর থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত র্যা ব ৩-এর হেফাজতে ছিলেন খালেদ।

বুধবার খালেদকে গ্রেফতারের আগে ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস ক্লাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র্যা ব। এখান থেকে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ক্লাবটির সভাপতি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অনেক দিন ধরে এখানে জুয়াসহ নানা অপকর্ম চলছিল। সাম্প্রতিককালে অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার পর বুধবার অভিযান পরিচালিত হয়। ইয়াংমেনস ক্লাবের পর ওই রাতেই ঢাকায় আরও তিনটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যােব।

র্যা বের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ইয়াংমেনস ক্লাব থেকে মাদক ও জুয়ার সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। ক্লাবের কাউন্টার থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, এদিন মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং বনানী এলাকার একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে মাদক, জালটাকা, বিপুল পরিমাণ টাকা ও ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

এর পর ক্যাসিনোটি সিলগালা করে দেয়া হয়। বনানীর আহমেদ টাওয়ারে অবস্থিত গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ নামে ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের নেতৃত্বে আছেন মমিনুল হক সাঈদ ও আবু কাউসার মোল্লা নামে দুই ব্যক্তি।

দুজনই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এদিকে বুধবার রাতেই গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনি মার্কেটসংলগ্ন একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যা ব। স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ ক্যাসিনোর নেতৃত্বে আছেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট।

খালেদ মাহমুদের সন্ধানে বুধবার দুপুরের পর থেকে তার গুলশান ২-এর ৫৯ নম্বর রোডের ৫নং বাসা ঘিরে রাখে র্যাুব। প্রিমোরোজ গার্ডেন নামে ৬ তলাবিশিষ্ট এ ভবনের তিনতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন যুবলীগ নেতা খালেদ।

বাড়ির ব্যবস্থাপক জানান, প্রথমে ডিবি পরিচয়ে একদল লোক বাসায় আসে। এর পর আসে র্যা ব। রাতে এখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় বাসার লকার ও দেয়াল আলমিরা থেকে অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা, টাকা, ডলার উদ্ধার করা হয়।

Print