বাঘায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ড্রেন কোনো কাজে আসছে না

July 12, 2019 at 10:25 pm

বাঘা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘার মূল সড়কের ধার দিয়ে ৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুই কিলোমিটার নির্মাণকৃত ড্রেন কোন কাজে আসছে না। ড্রেনের চেয়ে রাস্তা নিচু হওয়ার কারনে পানি নামছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ জলাবন্ধতার কারণে এ বর্ষা মৌসুমে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীরা দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

জানা যায়, গত বর্ষায় বাঘা পৌর এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বাঘা-ঈশরদী মহাসড়কের মূল সড়কের পাশ দিয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে ৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকার দুইটি প্রকল্প তৈরী করে দুই কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু রাস্তার চেয়ে এ ড্রেন উচু হওয়ায় পানি নামছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে বাঘা শাহদৌলা সরকারি কলেজ মার্কেটের মূল সড়কের সামনে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ- ড্রেন নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে, সেই পরিমাণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের কারণে বৃষ্টির পানি ড্রেনে নামতে পারছে না। আগের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেই। নতুন করে ব্যাপক অর্থ খরচ করা হলেও সঠিক তদারকি না থাকায় সুফল মিলছে না। ইতিপূর্বে ড্রেন পরিষ্কারের পেছনে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তারপরও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। পরিকল্পনা আর ডিজাইনে ত্রুটির কারনে এমনটি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বাঘা পৌর এলাকার সাজেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কাছে সবচেয়ে বেশি জিম্মি হয়ে পড়েছিল পথচারীরা। বৃষ্টির ফলে পৌর বাজারের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়ে দোকান, বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। সড়কের মাঝে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে বাঁশ গেড়ে সতর্ক চিহ্ন দেয়া হয়েছে। ফলে ড্রেন নির্মাণ করার পরেও আগের অবস্থাই রয়ে গেছে।

বাঘা বাজারের ব্যবসায়ী মোত্তালেব হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি দোকানে ঢুকে পড়ে। ফলে দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট হচ্ছে। এগুলো পরিষ্কার করার জন্য আলাদা শ্রম ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
বাঘা পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ড্রেন নির্মাণে ত্রুটি ধরা পড়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই মতাবেক তারা কাজ না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও দুই কিলোমিটার ড্রেনের মধ্যে ৯০ মিটার এখনও ঠিকাদার কাজ না করে বিল উত্তোলনের চেষ্টা করছে।
বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কাজগুলো আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগের প্রকল্প। তারপরও এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিব।

স/শা

Print