দুই হাজার এমপি দরকার ভারতে

March 20, 2019 at 9:29 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশ ভারতের লোকসভায় দুই হাজার এমপি প্রয়োজন।ভারতের নিজস্ব আইন অনুযায়ীই থাকা দরকার এক হাজার আসন। সেই জায়গায় বর্তমানে আসন সংখ্যা মাত্র ৫৪৫টি।

এর মধ্যে জনগণের সরাসরি ভোটি নির্বাচিত হয় ৫৪৩টি। ভারতীয় সংবিধানে ১০ লাখ জনসংখ্যার অনুপাতে একটি করে আসন বণ্টনের নির্দেশনা রয়েছে।

কিন্তু সেই নির্দেশনা মেনে গত কয়েক দশকে আসন বণ্টন ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে জনসংখ্যা বাড়লেও আসনের ক্ষেত্রে রাজ্যে রাজ্যে রয়ে গেছে বড় বৈষম্য। কোনো রাজ্যে একজন এমপি নির্বাচন করতে ভোট দেন ৩০ লাখ ভোটার।

আবার কোনো রাজ্যে এক এমপির বিপরীতে ভোটার মাত্র পাঁচ লাখ। ফলে সমান ভোটাধিকারের মর্যাদা হারাচ্ছে জনগণ।আর মাত্র তিন সপ্তাহ পরই ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের প্রশ্ন উঠেছে, ১৩০ কোটি জনগণের জন্য ৫৪৩ জন এমপি যথেষ্ট কিনা। প্রশ্ন রয়েছে, লোকসভায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বৈষম্য নিয়েও। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের ‘গ্লোবাল পার্লামেন্টারি রিপোর্ট-২০১২’ অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলোতে প্রতি ৬৩ হাজার ২৫০ জনকে প্রতিনিধিত্ব করেন একজন এমপি।

ভারতের ক্ষেত্রে এ হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে মাত্র একজন এমপি নির্বাচিত করতে ভোট দিতে হয় ১৫ লাখ ভোটারকে। টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, ইউরোপের আসন বণ্টন ব্যবস্থা অনুযায়ী লোকসভায় ২০১৯ সালেই দুই হাজার এমপি থাকা উচিত।

ভারতের সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, লোকসভায় প্রত্যেক রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসনাধীন অঞ্চলগুলোর আসন এমনভাবে বণ্টন করতে হবে যাতে আসনগুলোর জনসংখ্যার অনুপাত সবগুলো রাজ্যে যতটা সম্ভব সমান হয়।

১৯৭৬ সালে সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীতে ঘোষণা দেয়া হয়, পরবর্তী ২৫ বছর ধরে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে জনসংখ্যাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

২০০১ সালে ৮৪তম সংশোধনীতে আইনটি নবায়ন করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেই আইনে বড় বড় রাজ্যগুলোতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করেছিল একজন এমপি।

অন্য রাজ্যগুলো ভোটারের ব্যবধান ছিল ১০ লাখ থেকে ১০ লাখ ৬০ হাজার। কিন্তু এরপর হু হু করে জনসংখ্যা বাড়লেও গত ৪০ বছরে আসন বিন্যাস পদ্ধতি অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থানের একজন এমপি গড়ে ৩০ লাখ ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তামিলনাড়ু বা কেরালায় এমপি হয় ১৮ লাখ ভোটারে ভোটে। ছোট রাজ্য বা দিল্লির মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে আরও কম ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করেন একজন এমপি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একই রাজ্যের ভোটার হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমান মর্যাদা পাচ্ছেন না জনগণের একটা বিশাল অংশই। দৃষ্টান্তস্বরূপ, ২০০৮ সালের নির্বাচনে দিল্লির চাদনি চক আসনে মাত্র তিন লাখ ৩৪ হাজার ভোটার মাত্র একজনকে এমপি নির্বাচিত করে। কিন্তু আওটার দিল্লি আসনে ভোটার ছিল ৩৩ লাখ ৭০ হাজার।

আসন বিন্যাসে পরিবর্তন না ঘটলেও গত ৭০ বছরে লোকসভায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ১৯৫২ সালের প্রথম নির্বাচনের পর গণতন্ত্রের বয়স যত বেড়েছে, লোকসভার এমপিদের গড় বয়সও তত বেড়েছে। প্রথম লোকসভায় এমপিদের গড় বয়স ছিল ৪৬.৫ বছর। এখন এমপিদের গড় বয়স ৫৬ বছর। লোকসভায় বেড়েছে নারী এমপিদের সংখ্যা। গত ৩০ বছরের তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে এমপিরা আগের চেয়ে আরও বেশি শিক্ষিত। তবে উপস্থিতি কমেছে।

Print