মিরপুর বিআরটিএতে দুদকের অভিযান

July 12, 2018 at 6:16 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস কার্যক্রমে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সংস্থাটির মিরপুর কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার উপপরিচালক মো. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশসহ নয় সদস্যের একটি দল দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টায় বিআরটিএর ২০টি কাউন্টারের সব কটিতে অভিযান চালায়।

দুদক সূত্র জানায় সংস্থার অভিযোগ কেন্দ্রে (১০৬) ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলার সময় গ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করে। উপস্থিতি কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, ১১৩ নম্বর কাউন্টারে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস দেওয়ার কাজ অনেক দেরি করা হচ্ছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ওই কাউন্টারে কর্মরত শাহ মোহাম্মদ মুয়াবিয়াকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে।
এ সময় দুদকের দলটি বিআরটিএর উপপরিচালক মাসুদ আলমকে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস দেওয়ার কাজের পদ্ধতি সংস্কার ও উন্নয়নের আহ্বান জানান। দলটি বিআরটিএ কার্যালয়ে সম্প্রতি বসানো আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ভেহিক্যাল ফিটনেস ডিভাইসের মাধ্যমে একটি মিনিবাস তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করলে সেটি ফিটনেস পায়নি। ফিটনেস যাচাইয়ের ক্ষেত্র মেশিনটি সার্বক্ষণিকভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুদক দলের অভিযানকালে ১০টি ব্যক্তিগত গাড়ি হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্তভাবে তাৎক্ষণিকভাবে ফিটনেস সনদ পায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মিনহাজ শাহরিয়ার অভিযোগ করেন, তিনি চার ঘণ্টার বেশি সময় ফিটনেস নবায়নের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করে সনদ দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে জনসচেতনতার জন্য বিআরটিএ কার্যালয়ে দুর্নীতিবিরোধী স্টিকার ও লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং মাইকিং করে ঘুষ আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়কারী দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘বিআরটিএতে বিশৃঙ্খলার কারণ দুর্নীতি—তাই এ অভিযান চলছে। এ ছাড়া দুর্নীতিবাজদের ধরতে ফাঁদ দলের সদস্যদের তৎপর রাখা হয়েছে।’
গতকাল বুধবার ইকুরিয়ায় বিআরটিএর আরেকটি কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক।

Print