রাসিক নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনার পারদ

July 13, 2018 at 9:26 am

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রচারণার শুরুতেই স্নায়ুচাপে পড়েছেন বড় দুই দলের মেয়র প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে বাড়ছে উত্তেজনার পারদ।

সময় যত গড়াচ্ছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এরই মধ্যে কোথাও কোথাও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি এসব অভিযোগ লিখিত আকারে রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হয়েছে। তবে রিটার্নিং অফিসার আমিরুল ইসলামের দাবি, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক।

গত মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পরে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরে। বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর লোকজন তাদের কর্মীদের পেটাচ্ছে। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি এবং মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসির প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অভিযোগ, নৌকার মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ধানের শীষে ভোট দিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর লোকজন নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের ধানের শীষে ভোট না দিলে দেশছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার বিকেলে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী আইন সহায়তা উপকমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলামের পাঠানো লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিএনপির মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নামে অপপ্রচার ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। গত বুধবার সকালে নগরের পঞ্চবটি নদীতীরবর্তী এলাকায় বিএনপির কিছু কর্মী-সমর্থক ভোটারদের মধ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা শুরু করে। তারা ভোটারদের বলে, ‘আপনারা লিটনকে নির্বাচিত করলে তিনি আপনাদের এখান থেকে উচ্ছেদ করে দেবেন। ’ ওই সময় সংখ্যালঘু ভোটারদের বলা হয়, ‘ধানের শীষে ভোট না দিলে তোমাদের মেরে দেশছাড়া করব। ’

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর আরিডএ মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় তিনি নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত উল্লেখ করে বলেন, ‘বিএনপির অভ্যাস অভিযোগ করা। তারা এখন নালিশি দলে পরিণত হয়েছে। তাই রাসিক নির্বাচন ঘিরেও তারা নানা অভিযোগ করে যাচ্ছে। তারাই নানাভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। ’ লিটন আরো বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীর লোকজনই বিভিন্ন স্থানে আমার ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলছে। তারা আমার সমর্থকদের, এমনকি সংখ্যালঘুদেরও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ’ এ সময় লিটনের সঙ্গে ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা ফরিদ মামুদ হাসান, সেকেন্দার আলী, অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার প্রমুখ।

এদিকে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তাঁর কর্মী-সমর্থকদের পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে নগরের দুই ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সেগুলোর তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় প্রার্থী বুলবুল বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার দুই দিনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষ থেকে অবৈধ টাকা দিয়ে চার কোটি টাকার পোস্টার, ব্যানার ছাপানো হয়েছে। কিন্তু কে দিল এত টাকা? এই টাকার হিসাব জনগণকে দিতে হবে। ’

আওয়ামী লীগের অভিযোগের প্রসঙ্গে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বুলবুল বলেন, ‘কারা সংখ্যালঘুদের জমি জোর করে দখল করেছে, কাদের অত্যাচারে সংখ্যালঘুরা রাজশাহী ছেড়ে ভারত চলে গেছে, তা রাজশাহীবাসী জানে। আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহীবাসী সেই জবাব দিতে প্রস্তুত।

বুলবুল অভিযোগ করে আরো বলেন, বুধবার বিএনপির এক কর্মীকে মারধর করে যুবলীগের কর্মীরা পুলিশের কাছে দিয়েছে। পরে পুলিশ ওই কর্মীর নামে বোমা বিস্ফোরণের মামলা দিয়েছে। কিন্তু রাজশাহী শহরের কোথায় বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে, তা পুলিশকেই জবাব দিতে হবে। ’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘ইসির প্রধান কমিশনার সরকারের আজ্ঞাবহ। তাঁকে দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ’

এদিকে দুই প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। গ্রেপ্তারের বিষয়ে মহানগর পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আর নির্বাচনী আরচণবিধি সম্পর্কে তদন্ত চলছে। ’

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘পুলিশ কাউকে হয়রানি করছে না। যাদের নামে মামলা আছে, শুধু তাদেরই ধরা হচ্ছে। ’

স/আর

Print