বাগাতিপাড়া পৌরসভার ২৬ কর্মচারীর ১৭ মাস ধরে বেতন নাই

October 12, 2017 at 5:16 pm

বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি:
নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ২৬ কর্মচারি গত ১৭ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে তাদের অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তবে মেয়র বলেছেন, পে-স্কেলে কর্মচারীদের বেতন ভাতাদী অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে বেতনের সমুদয় অর্থের সংকুলান করতে না পারায় ছয়-সাত মাসের বেতন বকেয়া আছে।

এদিকে অনিয়মিত বেতন-ভাতাদী সমস্যা দুরীকরণে সরকারী কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্ট ও কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, বাগাতিপাড়া পৌরসভার ১২ কাউন্সিলর প্রায় এক বছর এবং ১৪ জন কর্মচারির ১৭ মাস ধরে বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। বেতন বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন খরচ যোগাতে তাদের প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের এখন দোকানিরাও তাদের বাকীতে পণ্য দিচ্ছেন না। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাতে হচ্ছে এসব কর্মচারীদের।

কর্মচারীরা বলেন, গত ঈদ-উল-আযহায় সর্বশেষ বকেয়া বেতন থেকে এক মাসের বেতন ও বোনাস পেয়েছেন। এরপর আর কোন বেতন পাননি। ফলে বেতনের বকেয়া ১৭ মাসে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা দূর করতে সরকারী কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড্র কাউন্সিলর আয়েজ উদ্দিন জানান, ‘তিনি বেশ কিছুদিন অসুস্থ রয়েছেন। বকেয়া বেতন-ভাতা চেয়েও না পাওয়ায় চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

মেয়র মোশাররফ হোসেন ছয় থেকে সাত মাসের বেতন বকেয়া থাকার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পৌরসভার নিজস্ব আয় থেকেই কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান করা হয়। কিন্তু পৌর নাগরিকরা নিয়মিত কর প্রদানে অনিহা দেখানোর কারনে কর আদায়ের হার সন্তোষজনক নয়। নাগরিকদের কর পরিশোধের জন্য উঠান বৈঠক করাসহ লাল নোটিশ পর্যন্ত করা হয়েছে। তাতেও কোন কাজে আসেনি। অপরদিকে বেতন ভাতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কারনে বেতনের সমুদয় অর্থের যোগান না পাওয়ায় কয়েক মাস বকেয়া রয়েছে।

কর্মচারী সহ ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রতিমাসে বেতন ভাতার জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ বিল সহ অন্যান্য খরচও রয়েছে। কর আদায়ের টাকায় সব কিছু করতে হয়।

এতদসত্ত্বেও দু’টি ঈদ বোনাসসহ বেশ কয়েক মাসের বকেয়া বেতন প্রদান করা হয়েছে। ১৬ মাসের বেতন ভাতা বকেয়া থাকা সহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়, মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স/অ

Print