ইবির হলে তল্লাশি: বোমা ও অস্ত্র উদ্ধার, দুই শিবির কর্মী আটক

August 13, 2017 at 7:57 pm

ইবি প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলে ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করা হয়েছে। এসময় দুই শিবির কর্মীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির কক্ষ থেকে ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, সিডি, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকাল ৩টা থেকে প্রায় ৭ ঘন্টা ব্যাপি এ তল্লাসি কার্যক্রম চলে।

হল প্রশাসন, পুলিশ ও প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আশরাফুল আলম ও ইবি থানা পুলিশ বিকাল ৩টার দিকে সাদ্দাম হোসেন হলের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাসি করেন। এসময় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কক্ষ তল্লাশির পূর্বে দুই শিবির কর্মীকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে ছাত্রলীগ। আটককৃত দুই শিবির কর্মীরা হলেন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের হাসনাত হোসাইন এবং আল-হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের গোলাম আজম। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কয়েকজন শিবির কর্মী অস্ত্র নিয়ে সাদ্দাম হোসেন হলে প্রবেশ করে, ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর বিকেল থেকে দফায় হলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালায় বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাদিউজ্জামান হাদির ৩১৭ নং রুম তল্লাশি করে ১১ টি ককটেল, ৫ টি পেট্রোল বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি, বিপুল পরিমাণ ডিস্ক, দেশীয় অস্ত্র, দালিলিক কাগজপত্র, ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তল্লাশি অভিযানে নের্তৃত্ব দেন কুষ্টিয়া সার্কেল পুলিশ সুপার মেহেদি হাসান।

তল্লাশি শেষে কুষ্টিয়া সার্কেল পুলিশ সুপার মেহেদি হাসান প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ‘ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় সাদ্দাম হোসেন হলে পুলিশ তল্লাশি চালায়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির রুম থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, সিডি ও দালিলিক কাগজপত্র উদ্ধার করেছে। ছাত্র নামধারী বাকি দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে গেছে, তবে দুইজন শিবির আটক হয়েছে। অতি শিগগিরই আমরা বাকিদের আটক করবো।’

এদিকে ক্যাম্পাসকে শিবিরমুক্ত করার এ প্রয়াশকে স্বাগত জানিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা আনন্দ উল্লাস করে মিছিল করে। মিছিলে বিভিন্ন ধরনের শিবির বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্রলীগের এক কর্মী বলেন, “ক্যাম্পাসকে শিবির মুক্ত দেখব এ প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের, আজ এ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এর স্বাদ কিছুটা পেতে শুরু করেছি।”

স/অ

Print