বাগমারায় থানা থেকে ফিরে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

থানায় অভিযোগের পরের দিন পানের বরজ থেকে মরদেহ উদ্ধার হলো গৃহবধু রফেলার (৪২)। পরিবারের দাবি রফেলাকে হত্যার পরে স্বামী রতন ও তার স্ত্রী নিজের পানের বরজে ঝুলিয়ে দিয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, রফেলা আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্তের আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

এনিয়ে নিহতের ভাই মনসুর রহমান বাদিয়ে বাগমারা থানায় দোলাভাই ও তার আগের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা রেকর্ড করা হয়েছে ৩০৬ ধারায়। এর আগে গত শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাগমারার সকালে হাশনিপুর এলাকার রতনের পানের বরজ থেকে গৃহবধু রফেলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগমারা থানার এসআই কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রফেলা থানা অভিযোগ দিতে আসেন স্বামী ও তার স্ত্রী (স্বতিন) নির্যাতন করেছে বলে। অভিযুক্তরা রফেলাকে তালাক দিয়ে চলে যেতে হবে। এনিয়ে তাদের সংসারে অশান্তি চলছে।

এসময় এসআই কামরুজ্জামান রফেলাকে বলেন, আপনি বাড়িতে যান এনিয়ে আমি রতেনের সঙ্গে কথা বলে মিমাংশার ব্যবস্থা করা হবে। পরে মাগরিবের দিকে রফেলা বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে ফিরে এসআইকে রাত ৮টার দিকে ফোনে কথা বলে মোবাইল নম্বর দেন রফেলা।

তিনি বলেন, প্রায় তিন মাস আগে রফেলা ও রতন থানায় এসেছিলেন। রফেলার ছেলে বাড়িতে উঠতে দিচ্ছে না বলে। ওইদিন এসআই কামরুজ্জামান রফেলার বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিমাংশ করে দেন। তার পর থেকেই ভালোই চলছিলো।

মামলার বাদি মনসুর রহমনা বলেন, তার বোনকে প্রায় মারধর করতো রতন। এনিয়ে শুক্রবার রাতে বাসায় এসে স্বজনদের বলে আমি ভাত খাবোনা রতনের। আর রতনের বাড়িতে যাবোও না। একই দিনে রাত ১০ দিকে বাড়ির বাইরে বের হয় রফেলা। এর পরে অনেক খোঁজাখুজি করেও রফেলাকে পাওয়া যায়নি।

পরের দিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসি রতনের পানের বরজে রফেলার মরদেহ দেখে। পরে বাগমারা থানায় জানানো হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গত রোববার দাফন করা হয়।

মামলার বাদি মনসুর রহমনা বলেন, এই মামলায় রতন ও তার স্ত্রীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে তাদের পুলিশ গ্রেফতারের কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে আসামিরা এলাকায় আসলে থানায় জানাতে।

এবিষয়ে মামলার আসামি রতন বলেন, তার (রফেলা) মরার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, স্বামী না খাবার দিতো না এমন অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এই মামলায় দুই আসামির মধ্যে একজনকেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রেখেছে।

স/আ