স্বামী হত্যায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

May 23, 2019 at 8:59 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ব্যবসায়ী মনির হোসেন হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রীসহ চার আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মনির হোসেনের সাবেক স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার কাকলী ওরফে নিপা, আনোয়ার হোসেন মোল্লা, মো. শরীফ মাতব্বর ওরফে শরীফ ও ইব্রাহিম খলিল।

রায় ঘোষণার সময় নিপা ও আনোয়ার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।অপরদিকে আসামি শরীফ ও ইব্রাহিম পলাতক রয়েছেন। রায়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে মনির হোসেনকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় মোবাইলে কল করে ডেকে আনেন নিপা। এরপর আসামিরা মনির হোসেনকে বালিশ চাপা দিয়ে ও ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

পরে তারা মনির হোসেনের লাশ গুম করার জন্য তার লাশ ৭ টুকরো করে বস্তাবন্দি করে কিছু অংশ বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে এবং বাকি অংশ পতিত জমিতে ফেলে দেয়।পরবর্তীতে পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করলে মনির হোসেনের প্রথম স্ত্রী হাসিনা বেগম তার স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ এপ্রিল হাসিনা বেগম বাদী হয়ে কামরাঙ্গীচর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতার হয়ে নিপা ও আনোয়ার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে আনোয়ার বলেন, নিপা একসময় যৌনকর্মী ছিলেন। মনিরের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পরও শরীফের সঙ্গে নিপার সম্পর্ক ছিল। এ কারণে মনির তাকে তালাক দেয়। আর তালাক দেয়ার কারণে ক্ষোভ থেকে নিপা এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুসারে মনিরকে ডেকে নিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরি দিয়ে গলা কাটা হয়। পরবর্তীতে মাংস কাটার চাপাতি দিয়ে মনিরের লাশ সাত টুকরো করে বস্তায় ঢুকিয়ে ফেলে দেয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১৪ মে ওই চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে পুলিশ। একই বছরের ১৯ অক্টোবর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৩৯ জনের মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঞা এবং আসামিদের পক্ষে আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া ও এমদাদুল হক লাল মামলাটি পরিচালনা করেন।

Print