রাজশাহীতে ৪ উপজেলায় আ.লীগের ঘরে বিদ্রোহ, একক প্রার্থী দুটিতে

February 22, 2019 at 1:07 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে আটটিতে। এই আটটি উপজেলার পাঁচটিতেই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই। আবার দুটি উপজেলাতে আওয়ামী লীগের দু’জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আর একটিতে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রয়েছেন দু’জন।
বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া দুটি উপজেলার মধ্যে মোহনপুরে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এখন একক প্রার্থী আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম ও বাঘায় গতকাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় একক প্রার্থী থাকলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লায়েব উদ্দিন লাভলু।

রাজশাহী নির্বাচন অফিস সূত্র মতে, এবার আটটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ২৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ৬জন। ফলে রাজশাহীর আটটি উপজেলায় এখন প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ জনে।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার জেলার বাগমারায় বিএনপি নেতা ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া ও বাঘায় বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ ও পুঠিয়ায় সত্বন্ত্র প্রার্থী মখলেছুর রহমান তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এতে করে বাঘায় এখন আওয়ামী লীগের মনোনীত লায়েব উদ্দিন লাভলু রইলেন একক প্রার্থী। অন্যদিকে তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় জেলার মোহনপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুস সালাম রয়েছেন একক প্রার্থী।

এর বাইরে জেলার দুর্গাপুরে রয়েছেন দু’জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত নজরুল ইসলাম ও বিদ্রোহী আব্দুল কাদের। পুঠিয়ায় রয়েছেন দু’জন। তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জিএম হিরা বাচ্চু ও জাতীয় পার্টির আনসার আলী। চারঘাটে রয়েছেন তিন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফকরুল ইসলাম, একই দলের দলের বিদ্রোহী এ্যাডভোকেট টিপু সুলতান ও জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন। বাগমারায় রয়েছেন দু’জন। তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত অনিল কুমার ও একই দলের বিদ্রোহী নাসিমা বাবুল। তানোরে রয়েছেন দু’জন। তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও ওয়াকার্স পার্টির মনোনীত সাবেক যুবলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম। শরিফুলের ভাই গোলাম রাব্বানী মন্ডুমালা পৌর সভার মেয়র ও তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়াও জেলার গোদাগাড়ীতে চারজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম, একই দলের বিদ্রোহী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান রবু, জাতীয় পার্টির এ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন বিশ্বাস ও ওয়াকার্স পার্টির সাইদুর রহমান।
এদিকে বাঘায় দুজন প্রার্থী মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এখন একক প্রার্থী থাকলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত লায়েব উদ্দিন লাভলু। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি লায়েব উদ্দিন লাভলুর বাড়িতে গতকালই নেতাকর্মীরা ভিড় করে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। তারা কেউ ফুল হাতে আবার কেউ মিস্টি হাতে করে নিয়ে গিয়ে বিজয়ী হতে যাওয়া প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা লাভলুকে শুভেচ্ছা জানান।

জানতে চাইলে লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, নির্বাচনের জন্য আমার সকল প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ভোট করতে হলো না। তার পরেও আমি জনগণের সঙ্গেই থাকতে চাই। কারণ জনগণ আমার পক্ষেই ছিলেন।
এই উপজেলায় আর কোনো প্রার্থী না থাকায় আজ বুধবার প্রতীক বরাদ্দের দিনে লায়েব উদ্দিন লাভলুকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বলে ঘোষণা দিবে নির্বাচন কমিশন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাঘায় তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনই তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে এখানে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আগামীকাল (আজ) আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষনা করা হবে। এছাড়াও অন্যান্য উপজেলার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করাও হবে।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, জেলার মোহনপুরেও এখন একজনমাত্র প্রার্থী আছেন। কিন্তু দুজন প্রার্থী আপিল আবেদন করেও তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পাননি। এখন পর্যন্ত আদালত থেকেও ওই প্রার্থীদের কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে আদালত থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা আর না এলে মোহনপুরের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালামকেও বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।’

 

স/শ

Print