সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি সুস্থ জীবনের অপরিহার্য অংশ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা রোগকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এতে করে চিকিৎসা সহজ ও কার্যকর হয়। বিশেষ করে ৩০ বছরের পর নারীদের শরীরে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তন দেখা দেয়।
ফলে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
যদিও নারীরা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় বেশি দিন বেঁচে থাকেন, তবে দীর্ঘ সময় ধরে অস্টিওপোরোসিস, ডিপ্রেশন, অটোইমিউন রোগসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় ভোগেন। পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড সমস্যার ঝুঁকিও এই বয়সে বেড়ে যায়। তাই রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য বছরে একবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

৩০ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেক নারীর জন্য প্রয়োজনীয় ৭টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা হলো-
রক্তচাপ পরীক্ষা
৩০ বছরের পর উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় নীরবে দেখা দেয়। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও ওজন পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ হৃদযন্ত্র, কিডনি ও ধমনীর ক্ষতি করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ থাকা উচিত।
যাদের বসে কাজ করতে হয়, বেশি লবণ খান বা পারিবারিক ইতিহাস আছে, তাদের নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। যোগব্যায়াম, হাঁটা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা
এই পরীক্ষায় রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানা যায়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। অলস জীবনযাপন, ভাজা খাবার ও বংশগত কারণ কোলেস্টেরল বাড়াতে পারে। এলডিএল কোলেস্টেরল ১০০ এর বেশি হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
পরীক্ষার আগে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকা ভালো। বছরে একবার এই পরীক্ষা হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ডায়াবেটিস পরীক্ষা
কফাস্টিং ব্লাড সুগার বা ওজিটিটি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রিডায়াবেটিস ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করা যায়। ৩০ বছরের পর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যাওয়ায় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। ৫.৭ শতাংশের নিচে থাকলে তা স্বাভাবিক। অতিরিক্ত ওজন, গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস বা পারিবারিক ঝুঁকি থাকলে বছরে একবার পরীক্ষা করা জরুরি।
প্যাপ স্মিয়ার ও এইচপিভি পরীক্ষা
জরায়ুমুখের ক্যান্সার শনাক্তে প্যাপ স্মিয়ার (৩ বছর অন্তর) বা এইচপিভি কো-টেস্ট (৫ বছর অন্তর) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩০ বছরের পর এইচপিভি সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
নিয়মিত পরীক্ষা, টিকাদান ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই পরীক্ষা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট
টিএসএইচ, টি-৩ ও টি-৪ পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয় করা যায়। ৩০ বছরের বেশি প্রতি ৮ জন নারীর মধ্যে ১ জন থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত হন। অকারণে ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়া, ক্লান্তি বা মুড সুইং এই সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। টিএসএইচ ৪.৫ এর বেশি হলে চিকিৎসা প্রয়োজন।
ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট পরীক্ষা
৪০ বছরের আগে ম্যামোগ্রাম না হলেও মাসে একবার নিজে স্তন পরীক্ষা এবং বছরে একবার ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো জরুরি। এতে গাঁট, অসমতা বা অস্বাভাবিক নিঃসরণ দ্রুত ধরা পড়ে। প্রথম পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হলে বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশের বেশি।
সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা ও মেটাবলিক প্যানেল
সিবিসি পরীক্ষায় রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) ধরা পড়ে, যা আয়রনের ঘাটতি বা অতিরিক্ত মাসিকের কারণে হতে পারে। মেটাবলিক প্যানেল লিভার, কিডনি ও ইলেকট্রোলাইটের অবস্থা জানায়। কম হিমোগ্লোবিনে দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আর বেশি ক্রিয়েটিনিন কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। বছরে একবার এই পরীক্ষা শরীরের সামগ্রিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করে।
সূত্র : এনডিটিভি









