লাইফ স্টাইল

বমিকে সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন, ভয়াবহ রোগ নয় তো?

নিউজ ডেস্ক৫ আগস্ট ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

অ্যাসিডিটি, ফুড পয়জনিং বা কোনো ধরনের পেটের সংক্রমণ হলে বমি হয়। বমির কারণও সাধারণত এসবই হয়ে থাকে।

বমি যে কারণেই হোক না কেন, এর পর সুস্থতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন সবাই। কিন্তু কখনো কি বমির রঙের দিকে খেয়াল করেছেন? এটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অধিকাংশ মানুষই বমির রঙের দিকে দৃষ্টি রাখেন না।
বমির রং দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর রং এবং ধরন দেখে গুরুতর শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, থানের গ্যাস্ট্রোকিউর এন্ডোস্কোপি সেন্টার অ্যান্ড লিভার কেয়ার ক্লিনিকের কনসালট্যান্ট হেপাটোলজিস্ট ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. রাজদীপ মোর বমি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বমির রং ও ধরন কী নির্দেশ করতে পারে, এটি কেন জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং কখনো আইসিইউতে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে।
বাদামি রঙের বমি
গাঢ় রঙের বমিকে সাধারণ হজমজনিত সমস্যা মনে করে ভুল করে থাকেন অধিকাংশ মানুষ। এ ব্যাপারে ডা. রাজদীপ ব্যাখ্যা করেন, গাঢ় রঙের বমি পরিপাকতন্ত্রের উপরের অংশে (উচ্চ জাই বা জিআই ট্র্যাক্ট) রক্তপাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এর মধ্যে খাদ্যনালি (ওএসফাগাস), পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্ত্র অন্তর্ভুক্ত।
এই উপসর্গ কী বোঝায় এবং কখন জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন, এ ব্যাপারে এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, উচ্চ জিআই ট্র্যাক্টের মারাত্মক রক্তপাত সাধারণত কফির গুঁড়ার মতো, বাদামি বা লালচে রঙের বমি হিসেবে দেখা দিয়ে থাকে। যা জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। এ অবস্থায় রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি এবং অবিলম্বে ‘আপার জিআই এন্ডোস্কোপি’ (Upper GI Endoscopy) করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আলসারে অ্যাডরেনালিন ইনজেকশন দিয়ে বা খাদ্যনালীর রক্তক্ষরণকারী শিরাগুলোতে ব্যান্ডিং করে রক্তপাত বন্ধ করে থাকেন চিকিৎসকরা।

পরিপাকতন্ত্রের উপরের অংশে রক্তপাত কেন হয়
গ্যাস্ট্রোএন্টালোজিস্ট ডা. রাজদীপের মতে, পরিপাকতন্ত্রের উপরের অংশে রক্তপাতের পেছনে কিছু কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পেপস্টিক আলসার (পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্তের ভেতরের স্তরে হওয়া খোলা ক্ষত), তীব্র গ্যাস্ট্রাইটিস বা পাকস্থলীর মারাত্মক প্রদাহ এবং ওএসোফেজিয়াল ভ্যারিস (খাদ্যনালীর ফুলে যাওয়া শিরা, যা সাধারণত লিভারের রোগে আক্রাান্তদের বেশি দেখা যায়)।

এ কারণে বাদামি, লালচে বা কফির গুঁড়ার মতো বমিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি গুরুতর অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। এ জন্য বাসা-বাড়ির টোটকা বা ফার্মেসি থেকে কেনা ওষুধে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে এবং সমস্যা নিজ থেকে ঠিক হবে ভাবা বাদ দিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। সঠিক সময় সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জরুরি এন্ডোস্কোপি চিকিৎসককে প্রধান সমস্যা শনাক্ত করতে এবং রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।