সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
ভয়াবহ এক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন ৩৯ বছর বয়সী ক্রিসি ওয়াল্টার্স। গত এক দশক ধরে অসহ্য যন্ত্রণা আর চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাওয়া ক্রিসি জানেন, তার রোগটি এখন নিরাময় অযোগ্য। কিন্তু এক বুক কষ্ট নিয়েও তিনি আজ আশাবাদী। কারণ, তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে যে প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত, তারা সম্ভবত আর কখনো এই মরণব্যাধির শিকার হবে না।
অস্ট্রেলিয়া এখন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।
জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি)। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত ‘গার্ডাসিল’ নামক টিকা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এক যুগান্তকারী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে ১২-১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জাতীয় কর্মসূচির আওতায় এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ২০১৩ সাল থেকে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও এই টিকার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আধুনিক এইচপিভি পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা হচ্ছে। নারীরা যাতে নিজেরাই নিজেদের নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন, সেই সুযোগ থাকায় পরীক্ষা করানোর হার অনেক বেড়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮২ সালের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বর্তমানে অর্ধেক হয়ে গেছে।
২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো দেশটিতে ২৫ বছরের কম বয়সী কোনো নারীর মধ্যে এই ক্যান্সার শনাক্ত হয়নি। বিজ্ঞানীদের মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া এই রোগ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে পারে।
সব ক্ষেত্রে সাফল্য এলেও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম এবং তাদের রোগ শনাক্ত হচ্ছে অনেক দেরিতে। এ ছাড়া কভিড-১৯ মহামারির পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে টিকা গ্রহণে কিছুটা অনীহা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর জন্য এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহায়তার বাজেট কাটছাঁট করায় অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি সুইডেন, রুয়ান্ডা ও যুক্তরাজ্যও জরায়ুমুখের ক্যান্সার নির্মূলের দৌড়ে শামিল হয়েছে। অধ্যাপক ক্যারেন ক্যানফেল বলেন, এই প্রথমবার আমরা বিশ্বব্যাপী একটি ক্যান্সার নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছি।
ক্রিসি ওয়াল্টার্সের মতো হাজারো মা আজ শান্তিতে ঘুমাতে পারেন এই ভেবে যে বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রা তাদের সন্তানদের একটি নিরাপদ ও ক্যান্সারমুক্ত পৃথিবী উপহার দেবে।
সূত্র : বিবিসি









