সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা শুনতে সহজ হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত এই সহজ অনুশীলন শরীর ও মস্তিষ্ক—দুইয়ের জন্যই দারুণ উপকারী।
বয়স বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পেশিশক্তি কমতে থাকে, যাকে বলা হয় সারকোপেনিয়া। এই পেশি ক্ষয়ের প্রভাব পড়ে ভারসাম্যের ওপর।

এক পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাই শরীরের সামগ্রিক শক্তি ও বার্ধক্যের গতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হয়। যারা নিয়মিত ভারসাম্যের অনুশীলন করেন, তাদের পা ও নিতম্বের পেশি শক্তিশালী থাকে এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
এই ব্যায়াম শুধু পেশির নয়, মস্তিষ্কেরও কাজ। এক পায়ে দাঁড়াতে গেলে চোখ, কানের ভেতরের ভারসাম্য ব্যবস্থা (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) এবং স্নায়ুতন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য মস্তিষ্ককে একসঙ্গে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়।
ফলে মনোযোগ, প্রতিক্রিয়ার গতি এবং সমন্বয় ক্ষমতা উন্নত হয়।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নির্দিষ্ট সময় এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, তাদের পরবর্তী বছরগুলোতে শারীরিক দুর্বলতা ও জ্ঞানীয় অবক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
বয়স্কদের আঘাতের বড় কারণ হলো পড়ে যাওয়া, যা বেশির ভাগ সময় ভারসাম্য হারানোর ফল। নিয়মিত ‘সিঙ্গেল লেগ ট্রেনিং’ এই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মস্তিষ্কের সেই অংশকে সক্রিয় রাখে, যা শরীরের অবস্থান বোঝা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সঙ্গে জড়িত।
ভালো খবর হলো, এই অনুশীলন খুব সহজেই দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করা যায়। দাঁত ব্রাশ করার সময়, রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় বা টিভি দেখার ফাঁকে—প্রতিদিন কয়েকবার ১০–২০ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। পরে পা বদলে একইভাবে অনুশীলন করুন। নিরাপত্তার জন্য শুরুতে দেয়াল বা চেয়ার কাছে রাখা ভালো।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন এই অনুশীলন করা উচিত। নিয়মিত চর্চায় ভারসাম্য, পেশিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা—সবই উন্নত হতে পারে। ছোট একটি অভ্যাসই বয়সের সঙ্গে সুস্থ ও স্বনির্ভর থাকার বড় সহায়ক হতে পারে।
সূত্র : বিবিসি









