সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর কয়েক সপ্তাহ অফিসে যাতায়াত করা সম্ভব হবে না। তাই সাময়িকভাবে বাসা থেকে কাজের (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) অনুমতি চেয়েছিলেন ভারতের পুনেতে কর্মরত এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী।
কিন্তু তাঁর দাবি, কাজটি পুরোপুরি অনলাইনে করা সম্ভব হলেও কোম্পানির এইচআর সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। পরে তিনি জানতে চান, এমন সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে বৈধ কি না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, ওই প্রকৌশলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটের ইন্ডিয়ান ওয়ার্কপ্লেস ফোরামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, অস্ত্রোপচারের পর কিছুদিন হাঁটাচলায় সমস্যা হবে।

তাই সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাসা থেকে কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এইচআর জানিয়ে দেয়, প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কোনো সুযোগ নেই।
তার দাবি, একই প্রতিষ্ঠানের অন্য কয়েকজন কর্মী অতীতে ম্যানেজারের অনুমোদনে বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এমনকি প্রয়োজন হলে দূর থেকে কাজের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারের লাইসেন্সের খরচও নিজে বহন করতে রাজি ছিলেন তিনি।
তবু তাঁর আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
আরও জটিল বিষয় হলো, তিনি তখন নোটিশ পিরিয়ডে ছিলেন। চিকিৎসাজনিত ছুটি নিলে চাকরি ছাড়ার নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে। তাই তিনি ছুটির বদলে বাসা থেকে কাজের সুযোগ চেয়েছিলেন।
শুধু এই কর্মী নন, এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে
কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত কারণে ওয়ার্ক ফ্রম হোম নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়।
২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের একাধিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা কর্মীরা নমনীয় কর্মব্যবস্থার আবেদন করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান তা মেনে নিলেও, কোথাও কোথাও আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জব একমোডেশন নেটওয়ার্ক (জান)-এর তথ্য অনুযায়ী, কোনো কর্মীর শারীরিক সমস্যা থাকলে তার কাজের ধরন অনুযায়ী নমনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময় কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। তবে কোন সুবিধা দেওয়া হবে, তা দেশভেদে আইন এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ওপর নির্ভর করে।
আইন কী বলে?
ভারতে এখন পর্যন্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম আইনগত অধিকার নয়। এটি মূলত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তাই কোনো কর্মী চাইলে প্রতিষ্ঠানকে বাধ্য করা যায় না।
তবে শ্রম আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চিকিৎসাজনিত কারণে কোনো কর্মী সাময়িকভাবে বাসা থেকে কাজ করতে সক্ষম হলে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এতে কর্মীর চিকিৎসা ও প্রতিষ্ঠানের কাজ—দুই-ই সচল রাখা সম্ভব হয়।
সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
রেডিটে ঘটনাটি প্রকাশের পর অনেকেই ওই প্রকৌশলীর প্রতি সহানুভূতি জানান। কেউ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের আরও নমনীয় হওয়া উচিত ছিল। আবার কেউ মনে করেন, ওয়ার্ক ফ্রম হোম যেহেতু প্রতিষ্ঠানের নীতিগত বিষয়, তাই এইচআরের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করা কঠিন।
কেউ কেউ মজার ছলে হুইলচেয়ারে করে অফিসে যাওয়ার পরামর্শও দেন, যাতে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির বাস্তবতা বুঝতে পারে।
বদলে যাচ্ছে কর্মসংস্কৃতি
কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান দূর থেকে কাজের সুযোগ বাড়ালেও, গত দুই বছরে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একটি অংশ আবার কর্মীদের অফিসে ফিরতে বলছে। ফলে স্বাস্থ্যগত কারণ, পারিবারিক দায়িত্ব বা দীর্ঘ যাতায়াতের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ক ফ্রম হোম নিয়ে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতবিরোধের ঘটনা আগের তুলনায় বেশি আলোচনায় আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব কাজ প্রযুক্তিগতভাবে দূর থেকে করা সম্ভব, সেখানে স্বাস্থ্যগত বিশেষ পরিস্থিতিতে নমনীয়তা দেখানো কর্মীর উৎপাদনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা—দুই-ই বাড়াতে পারে।









