সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বয়স্ক মানুষ যেমন অস্থিসন্ধির ব্যথায় কষ্ট পান, ঠিক তেমনই কম বয়সির মধ্যেও এ ধরনের ব্যথার সমস্যা দেখা গেছে। শোবার কিংবা বসার ভুল ভঙ্গি থেকে আপনার শরীরচর্চার ধরন—এমন অনেক ছোটখাটো বিষয়ই এ সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন কয়েকটি ভুল অভ্যাস নিয়ে সতর্ক করেছেন ব্যথা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করা ভারতের চিকিৎসক কুণাল সুদ।
এ চিকিৎসক বলেন, শরীরচর্চার সময় পেশিতে চোট লেগে যায়, অস্থিসন্ধিতেও ব্যথা হয়। এর মূল কারণ—সঠিকভাবে গা গরম বা ওয়ার্মআপ না করা। বেশি শ্রমসাপেক্ষ শরীরচর্চার আগে শরীরেরও প্রস্তুতির নেওয়া দরকার। কারণ ওয়ার্মআপ হলো সেই প্রস্তুতি পর্ব। এতে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে, রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং শরীরচর্চার সময় চোট পাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

ডা. কুণাল সুদ বলেন, অনেকক্ষণ বসে থেকে কাজ কিংবা বয়স্কদের চলাফেরা না করার অভ্যাসেও সমস্যা বেড়ে যায়। কারণ বসে থাকলে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। হাঁটু ও কোমরের নড়াচাড়া হয় না বলে সাইনোবিয়াল ফ্লুইডের সঞ্চালনও কমে যায়। এই তরল তরুণাস্থি মজবুত রাখার জন্য দরকার হাঁটাচলা। আর হাঁটাচলা করলে তা সঠিকভাবে সারা শরীরে সরবরাহ হয়। কিন্তু তা না হলে কিংবা একইভাবে বসে বা শুয়ে থাকলে পেশিও শক্ত হয়ে যায়। ফলে দেহের ভার গিয়ে পড়ে অস্থিসন্ধির ওপরে। তার ফলে ব্যথা হয়।
তিনি বলেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন শরীরচর্চা করার পর এক বা দুই সপ্তাহ বিরতি দিন। এর আবার কেউ শরীরচর্চা শুরু করলেন। প্রথম দিনেই বেশি শ্রমসাপেক্ষ ব্যায়াম করতে গেলে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এর ফলে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হতে পারে। বিরতি দিয়ে শরীরচর্চা করলে ধাপে ধাপেই করতে হবে, শরীরকে সইয়ে। আচমকা অতিরিক্ত শ্রমসাপেক্ষ শরীরচর্চা করার প্রবণতা বিপজ্জনক হতে পারে বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।
এ ছাড়া ক্রমাগত উঁচু হিল পরার অভ্যাসে পায়ে ব্যথা হয়। আবার জুতার কুশনিং ঠিক না থাকলেও তা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে না। ফলে অস্থিসন্ধিতে চাপ পড়ে এবং ব্যথা হয়। হিল জুতা দীর্ঘ সময় পর থাকলে দীর্ঘক্ষণ গোড়ালি উঁচু হয়ে থাকে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সমন্বয় নষ্ট হয়। ব্যথা হয় অস্থিসন্ধিতে বলে জানান ডা. কুণাল সুদ।
তিনি আরও বলেন, ব্যথা হতে পারে ভিটামিন এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব হলেও। হাড় যদি ক্ষয়ে যায়, যন্ত্রণা হবেই। কোলাজেন কার্টিলেজ মেটাবলিজমে সাহায্য করে অস্থিসন্ধির ব্যথা প্রতিরোধ করে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমায়। প্রদাহের কারণেও অনেক সময় ব্যথা বাড়ে। সে ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।









