সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বাইপোলার ডিসঅর্ডার হলো দীর্ঘস্থায়ী একটি মানসিক সমস্যা, যেখানে মানুষের মেজাজ বা মনের অবস্থা ও শক্তির স্তরে তীব্র পরিবর্তন ঘটে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কখনো অতিরিক্ত আনন্দ বা উত্তেজনা (ম্যানিয়া) অনুভব করেন, আবার কখনো গভীর বিষণ্ণতায় (ডিপ্রেশন) ডুবে যান। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ জীবনযাপন করা সম্ভব।
এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে মানুষের মেজাজ বা মনের অবস্থা চরম পর্যায়ে ওঠানামা করে।

একে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায় :
১। ম্যানিক পর্ব (অতিরিক্ত উত্তেজনা) : এতে মানুষ অস্বাভাবিক আনন্দ অনুভব করে, খুব দ্রুত কথা বলে, ঘুমের প্রয়োজন কমে যায় এবং অনেক সময় হঠকারী বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
২। বিষণ্ণতাপর্ব (চরম হতাশা) : এতে মানুষ প্রচণ্ড বিষণ্ণ থাকে, কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে, সব সময় ক্লান্তি অনুভব করে এবং ঘুমে অনিয়ম দেখা দেয়।
মাঝেমধ্যে মেজাজ একেবারে স্বাভাবিকও থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ইউথাইমিয়া’ বলা হয়।
এর ধরনগুলো কী কী?
১। বাইপোলার ওয়ান : অন্তত এক সপ্তাহ স্থায়ী তীব্র ম্যানিক পর্ব দেখা দেয়। এটি এতটাই গুরুতর হতে পারে যে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
২। বাইপোলার টু : এতে বিষণ্ণতা বেশি থাকে এবং ম্যানিয়ার বদলে ‘হাইপোম্যানিয়া’ (ম্যানিয়ার চেয়ে কিছুটা কম তীব্র) দেখা দেয়।
৩। সাইক্লোথাইমিক : মেজাজের এই ওঠানামা অন্তত দুই বছর ধরে চলতে থাকে, তবে লক্ষণগুলো খুব বেশি তীব্র হয় না।
কেন হয় এবং কাদের হয়?
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর প্রধান কারণ বংশগতি বা জিনগত।
পরিবারের কারো এই সমস্যা থাকলে অন্যদের হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপও এর কারণ হতে পারে। সাধারণত ২৫ বছর বয়সের দিকে এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
চিকিৎসা ও প্রতিকার
বাইপোলার ডিসঅর্ডার সারা জীবনের সমস্যা হলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো হলো :
ওষুধ : মেজাজ স্থিতিশীল রাখার জন্য চিকিৎসকরা ‘মুড স্টেবিলাইজার’ (যেমন- লিথিয়াম) বা অন্যান্য ওষুধ দেন।
টক থেরাপি : কাউন্সিলিং বা সাইকোথেরাপির মাধ্যমে নেতিবাচক চিন্তা পরিবর্তন করা শেখানো হয়।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন : নিয়মিত ব্যায়াম, সময়মতো ঘুমানো, ধ্যান করা এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
পরিবারের সহযোগিতা : প্রিয়জনদের মানসিক সমর্থন রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
মনে রাখা জরুরি, বাইপোলার ডিসঅর্ডার মানেই জীবন শেষ নয়। সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিও সাধারণ মানুষের মতো সফল ও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারেন।
সূত্র : ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক









