লাইফ স্টাইল

মৌসুম বদলের সময় কেন বাড়ে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি? জেনে নিন

নিউজ ডেস্ক১ মার্চ ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

অনেকেই মনে করেন কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা শুধু গরমের সময়, বিশেষ করে তীব্র ডিহাইড্রেশনের কারণে দেখা দেয়। কিন্তু ইউরোলজিস্টরা বলছেন ভিন্নকথা— তাপমাত্রা কমে গেলেও বা ঋতু বদলালেও এই ঝুঁকি একেবারে কমে যায় না। বরং সারা বছরজুড়ে আবহাওয়ার ওঠানামা নীরবে পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।হঠাৎ গরম, আর্দ্রতা, বৃষ্টি বা ঠান্ডার পরিবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পানিপানের অভ্যাসে প্রভাব ফেলে।

অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা হয়ে ওঠে না। পানির পরিবর্তে চা, কফি কিংবা মিষ্টিজাতীয় পানীয় বেশি গ্রহণ করা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং ক্যালশিয়াম, ইউরিক অ্যাসিড ও অক্সালেটের মতো খনিজ একত্রিত হয়ে কিডনির ভেতরে স্ফটিক তৈরি করতে শুরু করে, যা পরে পাথরে পরিণত হয়।

সে জন্য কিডনিতে পাথরের উপসর্গ সব সময় শুরুতেই বোঝা যায় না। তবে তীব্র কোমর বা পেট থেকে ঘুরিয়ে পিঠের দিকে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, রক্তমিশ্রিত প্রস্রাব, জ্বর-ঠান্ডা কাঁপুনি কিংবা বারবার ইউরিন ইনফেকশন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বর্তমানে চিকিৎসা অনেক সহজ ও কম কষ্টকর। ছোট পাথর ওষুধ ও বেশি পানি পান করলে বেরিয়ে যেতে পারে। বড় পাথরের ক্ষেত্রে ইউরেটেরোস্কপি, রেট্রোগ্রেড ইন্ট্রারেনাল সার্জারি বা পারকিউটেনিয়াস নেফ্রোলিথোটমির মতো মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতিতে অপসারণ করা হয়। তবে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর। সারা বছর নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান, অতিরিক্ত ক্যাফিন ও লবণ কমানো এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা—এই সহজ অভ্যাসগুলোই আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আবহাওয়া বদলালে মানুষের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন আসে—পানি খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়, খাদ্যাভ্যাস বদলায় এবং শারীরিক পরিশ্রম কমে। এসব মিলেই ঝুঁকি বাড়ে।

সে কারণে গরমে শরীর বেশি ঘামে, ফলে অজান্তেই শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। আবার ঠান্ডা বা বর্ষায় তৃষ্ণা কম লাগে, তাই অনেকে কম পানি পান করেন। দুই ক্ষেত্রেই ডিহাইড্রেশন হতে পারে। পানি কম খেলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং খনিজ পদার্থ জমাট বাঁধতে শুরু করে।

আর ঋতু বদলের সময় কিছু অভ্যাস ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ঠান্ডায় মানুষ সাধারণত কম পানি পান করে এবং বেশি চা-কফি খায়। ক্যাফিন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীর আরও ডিহাইড্রেট হতে পারে। পাশাপাশি ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও রেস্তোরাঁর খাবার বেশি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে প্রস্রাবে ক্যালশিয়াম বৃদ্ধি করে। আবার বৃষ্টি বা ঠান্ডার কারণে বাইরে হাঁটা-চলা কমে গেলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয় এবং শরীর অতিরিক্ত খনিজ বের করতে কম সক্ষম হয়।