লাইফ স্টাইল

নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, ‘ডিভোর্স রিং’ হয়ে উঠছে আনন্দের প্রতীক

নিউজ ডেস্ক১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

বিচ্ছেদ উদযাপনের নতুন ধারা ‘ডিভোর্স রিং’—এ প্রবণতা আদতে নারীর আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার এক নতুন ভাষার চল শুরু হয়েছে। নতুন করে পরিচয় বহন করা। দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে ও সম্পর্ককে নারীর সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়। ডিভোর্স রিং সেই ধারণার বার্তা দিয়েছে। এটি জানিয়ে দেয়— সম্পর্ক ভাঙা মানেই শেষ নয়। সম্পর্কভাঙার অর্থ হচ্ছে—নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়া।

কিন্তু আমাদের সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্সকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। বিশেষ করে আত্মীয়স্বজনের কৌতূহলী দৃষ্টি, পাড়া-প্রতিবেশীর ফিসফাস— এমনকি নিজের পরিবারও অনেক সময় বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্সকে যন্ত্রণাদায়ক করে তোলে। আর তা নারীর ক্ষেত্রে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নারীদের ক্ষেত্রে এ বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সম্পর্কভাঙার পর উদযাপনের ব্যাপারটি একটু অদ্ভুতই লাগার কথা।

অথচ সারা বিশ্বের নানা প্রান্তে এই ভাঙনকে দেখছেন নতুন জীবনের শুরু হিসেবে। সেই বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হয়ে উঠছে ‘ডিভোর্স রিং’, যা আমাদের সমাজেরও একটি অংশ ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে।

পশ্চিমা দুনিয়ায় আলোচিত এ প্রবণতার কথা তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সাময়িকী ‘ভোগ’। ডিভোর্স রিং দেখতে অনেকটা বিয়ের বা এনগেজমেন্ট আংটির মতো ধাতব, ঝকঝকে ও কখনো রত্নখচিত হলেও এর অর্থ একেবারেই ভিন্ন। এই আংটি হাতের আঙুলে পরার অর্থ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার দৃঢ়তা দেখানো।

এ বিষয়ে লন্ডনভিত্তিক গহনা ডিজাইনার আনুশকা ডুকাস বলেছেন, ডিভোর্স রিং আদতে বিষণ্নতার প্রতীক নয়, বরং আনন্দের। তিনি বুটিকে নিয়মিত ‘ডিভোর্স রিং পার্টি’ আয়োজন করে থাকেন, যেখানে বিবাহবিচ্ছেদ–আইনজীবী ও তাদের মক্কেলরা একত্র হন। সেখানে বিষাদময় পরিবেশের চেয়ে থাকে আনন্দের হাসি, গল্প আর এক ধরনের সহমর্মিতার আবহ।

তিনি বলেন, অনেক হাসি–আড্ডা হয়। এক ধরনের বন্ধুত্ব তৈরি হয়, যা আদতে এটি একটি কমিউনিটি গড়ে তোলার ব্যাপার। আর এ প্রবণতা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন তারকারা।

আনুশকা ডুকাস বলেন, মার্কিন মডেল ও অভিনেত্রী এমিলি রাতাজকাউস্কি তার স্বামী সেবাস্তিয়ান বিয়ার-ম্যাকক্লার্দের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এনগেজমেন্ট রিংয়ের হীরা দিয়েই বানিয়েছেন দুটি নতুন আংটি। সামাজিক মাধ্যমে সেসব দেখিয়ে তিনি যেন স্পষ্ট করে দিয়েছেন— পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতিকে মুছে ফেলা নয়, বরং নতুন অর্থে রূপান্তর করাই তার পথ।

তবে বিচ্ছেদ উদযাপন শুধু দামি আংটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি অনেকের জন্য মানসিক মুক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে। এটি কারও কাছে সেই মুক্তি প্রকাশ পাচ্ছে ট্যাঁটুতে, কারও কাছে পার্টিতে, আবার কারও কাছে নিজের ঘর নতুন করে সাজানোর মধ্য দিয়ে। টিকটকে জনপ্রিয় হওয়া #DivorcedMomCore ট্রেন্ড তারই উদাহরণ। এই ট্রেন্ডে নারীরা বলছেন— এবার থেকে জীবন চলবে শুধুই নিজের পছন্দে এবং নিজের রুচিতে।

 

সূত্র: যুগান্তর