লাইফ স্টাইল

গুড় না খেজুর— চিনির বিকল্প হিসেবে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

নিউজ ডেস্ক৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ডিজিটাল যুগে সচেতন মানুষ। কারণ চিনি ছাড়া ডায়েট এখন খুবই জনপ্রিয়। বিশ্বজুড়েই চলছে— নো সুগার ক্যাম্পেইন। সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছেন বাঙালিরাও। বিশেষ করে ভোজনরসিকরাও এখন চিনি ছাড়া স্বাস্থ্যকর মিষ্টি খেতে শিখে গেছে।

আর সে কারণেই চিনির বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে গুড় ও খেজুরের নাম। রান্নাতেও চিনির বদলে দেওয়া হচ্ছে গুড়। এখন প্রশ্ন হলো— গুড় না খেজুর? কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর।

ওজন কমাতে চলছে নিত্য লড়াই। আর ওজন কমাতে চিনির বদলে কারা কোনটি খেলে বেশি উপকার পাবেন, তা নিয়ে গবেষণারও অন্ত নেই। কারণ চিনি খেতে চান না, এর বদলে খাবেন কী গুড় না খেজুর এ নিয়ে দ্বিধায় থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে কোনটি বেশি উপকারী, সেদিকেই ঝুঁকছেন?

ওজন ঝরানোর জন্য ডায়েট মেনে খাবার খান যারা, তাদের ডায়েটে খেজুর রাখা জরুরি। যাদের সুগার নেই, তারা খাওয়ার পর গুড় খেলেই উপকার বেশি পাবেন। আর দুপুরে কিংবা রাতে খাওয়ার আধাঘণ্টা পর এক টুকরো গুড় খেলে হজম ভালো হবে। এতে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে বুঝেশুনেই খেতে হবে গুড়। কারণ যারা ওজন কমাতে চান, তারা চিনির বদলে গুড় খেলে উপকার পাবেন।

অন্যদিকে আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে খেজুর রাখা আবশ্যক। কারণ ভিটামিন বি৬, কে, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফাইবারের গুণে ভরপুর খেজুর ওজন কমাতে ভীষণ সাহায্যকারী। কারণ ফ্ল্যাভোনয়েড্স, ক্যারোটিনয়েড্স ও ফেনোলিক অ্যাসিডের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে খেজুরে। এ উপাদানগুলো আপনা রশরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। খেজুর খেলে পেট অনেকক্ষণ ভর্তি থাকে, বেশি ভাজাপোড়া খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না।

গুড় বা খেজুর যেভাবে খেলে ওজন কমবে—

গুড় খাওয়ার নিয়ম হচ্ছে, সামান্য গরম পানি দিয়ে আদার রস ও গুড় মিশিয়ে খেলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। এতে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমবে এবং ওজনও কমবে। সেই সঙ্গে আধা চামচ জোয়ানের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে হজমশক্তি বাড়বে।

আর খেজুর খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে। আপনি সকালে খালি পেটে একটি বা দুটি ভেজানো খেজুর খেলে বেশি উপকার পাবেন। এতে হজম ভালো হবে। আর বিকালে বিস্কুট কিংবা ভাজাপোড়ার বদলে একটি খেজুর, চারটি কাঠবাদামের সঙ্গে খান, এটি শক্তির জোগান দেবে। এ ছাড়া স্মুদি বা ওটসের সঙ্গে খেজুর বাটা মিশিয়ে খেলেও উপকার হবে।

আবার বীজ ছাড়া এক কাপ খেজুর, আধাকাপ ওটস, সামান্য তিল ও একমুঠো কাঠবাদাম নিয়ে মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। এবার ওটসের গুঁড়ো, বাদাম মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করুন। উপরে সামান্য তিল ছড়িয়ে দিন। এটি বিকালে স্ন্যাক্স হিসেবে খেলে পেটও ভরবে, ওজন কমবে।

আর খেজুর দিয়ে তৈরি করতে পারেন স্মুদিও। এক কাপ দুধ, ২টি খেজুর, আধ চামচ তিসির বীজ ও এক চিমটি ছোট এলাচের গুঁড়ো নিয়ে নিন। সব একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন চিনি ছাড়াই। এ পানীয় সকালের নাশতায় খেতে পারেন।

 

সূত্র: যুগান্তর