সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বিয়ে নিয়ে প্রচলিত প্রবাদ—‘বিয়ের লাড্ডু যে খায়, সে পস্তায়; আর যে খায় না, সেও পস্তায়।’ বাস্তবে এই কথাটি নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হলেও সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ভিন্ন এক বাস্তবতা।
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেলিন্ডা হিউইটের নেতৃত্বে পরিচালিত এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ের পর বা সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করলে পুরুষেরা তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তুষ্টি ও মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেন। বিপরীতে, নারীদের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সন্তুষ্টির মাত্রা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

এই গবেষণায় ১৮ বছর ধরে প্রায় ২ হাজার ৮২০ জন মানুষের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, নারীদের জীবনের সবচেয়ে সুখের সময় সাধারণত বিয়ের আগের পর্ব—যখন তারা প্রেমের সম্পর্কে থাকেন বা ভবিষ্যৎ বিয়ের পরিকল্পনা করেন। গবেষকদের মতে, এই সময়টিতে লক্ষ্য, স্বপ্ন ও পরিকল্পনার আনন্দ নারীদের মানসিকভাবে তৃপ্ত রাখে। তবে বিয়ের এক বছরের মধ্যেই সেই সুখ অনেক ক্ষেত্রে হ্রাস পায়, যার পেছনে সামাজিক প্রত্যাশা ও পারিবারিক চাপকে দায়ী করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে বিয়ের পর মানসিক স্বস্তি বাড়লেও তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যে তেমন একটা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না। এছাড়া নারীদের জন্য সম্পর্কের স্থায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা মানসিক সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে মত দেন গবেষকরা।
এদিকে ‘রিলেশনশিপ থেরাপি’ জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সে ছোট পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে থাকা নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সন্তুষ্টিতে ভোগেন। এ ধরনের সম্পর্কে নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ভাব-আবেগগত সচেতনতা বেশি থাকে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য গবেষকদের মতে, সুখ বা সন্তুষ্টি কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক ছক বা বয়সের ব্যবধানের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং সম্পর্কের স্বচ্ছতা, পারস্পরিক সম্মান ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই দীর্ঘমেয়াদি সুখের প্রধান ভিত্তি।
সূত্র: যুগান্তর









