লাইফ স্টাইল

পুরুষ-নারীর হৃদরোগ কি এক রকম? যা বলছেন কার্ডিওলজিস্ট

নিউজ ডেস্ক৩০ আগস্ট ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

হৃদরোগের লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রভাব পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে সবসময় এক রকম নয়। বয়স একই হলেও হৃদরোগের ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে দুইজনের জন্য একই প্রশ্ন নাও প্রযোজ্য হতে পারে।

এমনটাই জানিয়েছেন ২০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতার এক কার্ডিওলজিস্ট।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ও ফাংশনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সঞ্জয় ভোজরাজ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদরোগের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর পার্থক্য নিয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, শুধু বয়স বা কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখে হৃদরোগের ঝুঁকি নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

রোগীর ব্যক্তিগত ও শারীরিক ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. ভোজরাজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনামূলক কম বয়সেই হৃদ্‌রক্তনালির রোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পরিবারের কারও হৃদরোগের ইতিহাস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা বিপাকীয় সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

 

তাই ৪০ বা ৫০ বছর বয়সী কোনো পুরুষের এসব ঝুঁকি থাকলে শুধু উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে আগেই হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

 

নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় শুধু বয়স বা কোলেস্টেরল নয়, জীবনের বিভিন্ন পর্যায় ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়ার মতো সমস্যা হয়েছিল কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে মেনোপজ কখন শুরু হয়েছে, সেটিও হৃদরোগের ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।

অর্থাৎ, নারীর প্রজননস্বাস্থ্যের কিছু তথ্য ভবিষ্যতের হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।

হৃদ্‌রক্তনালিতে জমা প্লাকের পরিমাণ পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে একই অর্থ বহন নাও করতে পারে।

কার্ডিওলজিস্টের মতে, পুরুষদের সাধারণত তুলনামূলক বেশি এবং কম বয়সেই করোনারি প্লাক তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম প্লাক থাকলেও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা বা বুকে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তাই একই বয়সের দুই ব্যক্তির শুধু বয়স ও কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখে হৃদরোগের ঝুঁকি বিচার করা যথেষ্ট নয়।

হৃদরোগের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর উপসর্গে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই কারও বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো নতুন উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—হৃদরোগের ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে ‘এক নিয়ম সবার জন্য’ পদ্ধতি সবসময় কার্যকর নয়। ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, রক্তচাপ, বিপাকীয় সমস্যা, নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যটি চিকিৎসকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। হৃদরোগের ঝুঁকি বা কোনো উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।