লাইফ স্টাইল

অফিসে খুঁতখুঁতে ও দোষ-সন্ধানী সহকর্মী যেভাবে সামলাবেন?

নিউজ ডেস্ক১৫ আগস্ট ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

কর্মক্ষেত্রে দিনের একটি বড় অংশ কাটাতে হয় বলে সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তবে অনেক অফিসেই এমন কিছু সহকর্মীর দেখা মেলে, যাদের প্রধান কাজই যেন অন্যের কাজের খুঁত বা ভুল ধরা।

মিটিং বা দলগত আলোচনায় বক্তব্যের বিরোধিতা করা, কাজের পদ্ধতি নিয়ে অনাবশ্যক প্রশ্ন তোলা কিংবা আড়ালে গিয়ে ক্ষোভ ঝাড়া—এমন আচরণে অনেকের জন্যই কাজের পরিবেশ বিষিয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক মনোবিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সাইকোলজি টুডের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা কাজের মান বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু সমালোচনার উদ্দেশ্য যখন কাউকে ছোট করা বা দোষী প্রমাণ করা হয়, তখন তা পুরো দলের মানসিক স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা ব্যাহত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দোষ-সন্ধানী ব্যক্তিরা মূলত চান আপনি মেনে নিন যে আপনার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।

এতে উভয় পক্ষের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সহকর্মীদের সঙ্গে পরম বন্ধু হওয়া জরুরি নয়, তবে কাজের পরিবেশ সহনীয় রাখতে একটি পেশাদার ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।
অফিসে এমন খুঁতখুঁতে সহকর্মীদের সামলাতে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু কৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন—

আগে নিজেকে যাচাই করুন
সমালোচনায় কান দেওয়ার আগে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করুন। পরিস্থিতি তৈরিতে আপনার নিজের কোনো ভুল বা গাফিলতি ছিল কি না, তা আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

পরচর্চায় পা দেবেন না
সহকর্মীদের পরচর্চা বা গোপনে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার খেলায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কোনো সমস্যা থাকলে তা সবার সামনে বা সরাসরি খোলাখুলি আলোচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কথা বলে উত্তেজনা দূর করুন
প্রকাশ্যে কোনো সহকর্মী আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পরে নির্জনে কথা বলুন। বিনয়ের সঙ্গে সমস্যা ও তার সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করুন।

নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন
যিনি বেশি সমালোচনা করেন, তাকে নিজের কাজের আপডেট জানান।

উপযুক্ত ক্ষেত্রে তার পরামর্শ নিন বা যৌথ উপস্থাপনার সুযোগ দিন। বসের কাছে নালিশ করার আগে তাদের অভিযোগ শুনে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখালে সমস্যা অনেকটাই কমে আসে।
নিজের ও অন্যের জন্য সীমা নির্ধারণ করুন
গঠনমূলক আলোচনা মেনে চললেও কেউ যদি অপমানজনক বা অশালীন আচরণ করেন, তবে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করুন। নিজের সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি সহকর্মীর প্রতিও শালীনতা বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মক্ষেত্রের মূল লক্ষ্য সব সহকর্মীর সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব করা নয়, বরং একটি সুস্থ ও পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখা—যাতে দিন শেষে কাজের দুশ্চিন্তা অফিসে রেখেই বাড়ি ফেরা সম্ভব হয়।