লাইফ স্টাইল

আমের আঁটিতে লুকিয়ে রয়েছে যত স্বাস্থ্যরহস্য

নিউজ ডেস্ক৮ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

গরমের দুপুরে রসালো আম খাওয়ার আনন্দ শেষ হলেই বেশিরভাগ মানুষ আঁটিটা ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেন। যেন ফলের কাজ শেষ। আঁটিরও কোনো প্রয়োজন নেই। অথচ যে অংশটিকে আমরা অবহেলায় ফেলে দিই, সেটিই হতে পারে শরীরের জন্য দারুণ উপকারী।

ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময় আমের আঁটির একগুচ্ছ উপকারিতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে।

আয়ুর্বেদ বলছে, পাকা আমের আঁটি শুধু খাওয়াই যায় না, সঠিক উপায়ে খেলে মিলতে পারে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারও। ডায়াবেটিস থেকে হজমের সমস্যা—নানা ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে এই আমের আঁটি।

পুষ্টিগুণে ভরপুর আমের আঁটি

আমের মতোই এর আঁটিও নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিতে সমৃদ্ধ।

এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপার এবং ফোলেট। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেও ভরপুর আমের আঁটি। বিশেষ করে এতে থাকা ‘ম্যাঞ্জিফেরিন’ নামের উপাদান শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া এতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাওয়া যায়, যা শরীরের জন্য উপকারী।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী

ডায়াবেটিস থাকলে অনেকেই আম খেতে ভয় পান। কারণ পাকা আমে প্রাকৃতিক চিনি তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে আয়ুর্বেদ বলছে ভিন্ন কথা। আমের আঁটির গুঁড়ো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এটি ইনসুলিন উৎপাদন ও ক্ষরণ স্বাভাবিক রাখতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়।

ফলে যাঁরা সুগারের কারণে আম এড়িয়ে চলেন, তাঁরা সীমিত পরিমাণে আমের আঁটি খেতে পারেন নিশ্চিন্তে।
হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে

আমের আঁটিতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও বিভিন্ন উপকারী উপাদান কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ—দুটিই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়ম মেনে আমের আঁটি খেলে হৃদ্‌স্বাস্থ্যেরও উপকার মিলতে পারে।

পেটের সমস্যায় দারুণ কার্যকর

অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও আমের আঁটি বেশ উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ডায়ারিয়া, আমাশয় কিংবা অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির মতো সমস্যায় এটি ভালো কাজ দিতে পারে। যাঁরা প্রায়ই বদহজম বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরাও খাদ্যতালিকায় আমের আঁটি রাখতে পারেন সীমিত পরিমাণে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে

আমের আঁটিতে থাকা ভিটামিন সি, ফেনোলিক এসিড ও ফ্ল্যাভনয়েড শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এমনকি কিছু গবেষণায় ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও এই ধরনের উপাদানের ইতিবাচক ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। আয়ুর্বেদে স্কার্ভির মতো সমস্যার ক্ষেত্রেও আমের আঁটির ব্যবহার উল্লেখ রয়েছে।

যেভাবে খাবেন আমের আঁটি

পাকা আমের আঁটি ভালো করে পরিষ্কার করে কড়া রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে গেলে সেটি গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করা যায়। এই গুঁড়ো এক গ্লাস জলে মিশিয়ে কিংবা আটার রুটির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে দিনে ১ গ্রামের বেশি না খাওয়াই ভালো।

এ ছাড়া আঁটি সরু করে কেটে শুকিয়ে নিয়ে হালকা রোস্ট করেও খাওয়া যায়। সামান্য লবণ ছড়িয়ে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে খেতে পারেন। চাইলে টক-মশলাদার চাটনিও বানানো যায়।

সতর্কতাও জরুরি

যে কোনও ভেষজ বা প্রাকৃতিক উপাদানের মতো আমের আঁটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ খান, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করা ভালো।

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ