বাগমারায় আসবাবপত্রের পসরায় করোনা ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি

বাগমারা প্রতিনিধি:
বাগমারার বালানগর ইসলামী সমাবেশের জের প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ সময়ে আসবাবপত্রে জমজমাট মেলার আসর চলছে। সমাবেশের পর প্রতি বছর মাস ব্যাপি বাজার বসলেও এবারে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বাজার আগে বন্ধ করার আহবান জানান ওই সমাবেশ কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘ সময়ে মেলার আদলে সমাবেশের পর কাঠের খাট, চেয়ার ড্রেসিং, মেলামাইন বোর্ডের সামগ্রীসহ কম্বল, লঙ্গি-শাড়ির পসরার বাজার বসছে। এতে করে ওই বাজারে বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম বাড়ছে। এদিকে উপজেলায় স্থানীয় ভাবে কোন ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষন পাওয়া না গেলেও আতঙ্কে রয়েছে ওই এলাকার মানুষ।

জানা গেছে, গত ৮ মার্চ উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের বালানগর কামিল মাদ্রাসার উদ্যোগে দিন-রাত ব্রাপী ইসলামী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশকে ঘিরে মাঠের পাশে বসে বাজার। এবারে দেশে যখন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লোক সমাগম সীমিত রাখতে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ঠিক তখনও এখানে চলছে প্রতিদিন বিকেলে মানুষের ঢল। এতে করে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পারে এমন আতঙ্ক আশঙ্কা করে স্থানীয়রা বাজার ব্যবস্থা বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, সমাবেশ শেষে দীর্ঘ সময়ে দুর-দুরান্ত লোকের সমাগমে তারা বিব্রত। প্রতিদিন কেনাকাটার জন্য এলাকার ও বাইরের লোক জনসমাগম ঘটছে। যদিও বাগমারা উপজেলায় কোন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত নেই। তবে বিদেশ ফেরতদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে আছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিদেশ ফেরত ও ঢাকা হতে আগতদের আসবাবপত্র কেনাবেচায আসছে। ইতি মধ্যে প্রশাসনের নজরদারীতে প্রবাসীকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানাসহ ঘরে থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এরই মধ্যেও সরকারী নিদের্শনা উপেক্ষা করে মাস ব্যাপী লোক সমাগমে তারা ভাইরাস ছড়ানোর হুমকিতে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ জানান, করোনা ভাইরাসের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। সে কারণে আতংকিত না হয়ে যারা ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাগমারায় এসেছে তাদেরকে ১৪ দিনের জন্য নিজ বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া চলমান অবস্থায় সকলকে ঘরে অবস্থান করার অনুরোধ করা হয়েছে।

স/অ

Print