কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মঘটে রাজশাহীর ১৪ পৌরসভায় ভোগান্তি চরমে

July 20, 2019 at 7:37 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহত ধর্মঘটের কারণে রাজশাহীজুড়ে স্থবির হয়ে আছে পৌর সভার কার্যক্রম। এ নিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিকত্ব সনদসহ বিভিন্ন কাজে গিয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে পৌরবাসীকে। এমনকি ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার থেকে শুরু করে পানি সরবরাহ ও পৌর এলাকায় আলোকায়নসেবাসহ নানা ধরনের উন্নয়নকাজও থমকে গেছে। ফলে পৌরবাসী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

এদিকে দাবি আদায়ের এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা না পাওয়ায় আন্দোলন আরো দীর্ঘ হতে পারে বলে জানিয়েনে আন্দোলনকারীরা। আর এটি হলে পৌরবাসীদের মাঝে আরো ভোগান্তি বাড়বে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পেনশন ও বেতনভাতা পাওয়ার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মসূচি গত রবিবার থেকে অব্যাহত রয়েছে।

পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের ৩২৭টি পৌরসভায় একযোগে সব সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহীতেও এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি রোকমুজ্জামান টিটু বলেন, ‘রাজশাহীতে ১৪টি পৌরসভা আছে। এসব পৌরসভায় ৬০৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। কিন্তু প্রতিটি পৌরসভায় অন্তত ৫-৮ মাস ধরে অর্থের অভাবে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বন্ধ হয়ে আছে। বেতন-ভাতা না পেয়ে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছি। এভাবে আর কতদিন চলা যায়? তাই আমরা বাধ্য হয়ে সরকারের কোষাগার থেকে বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। এটি ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নাই।’

টিটু বলেন, রাজশাহীর কোনো পৌরসভায় নিজস্ব ফান্ডে অধিকাংশ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের টাকা থাকে না। যা আয় হয় নানা উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সারা বছরজুড়েই চলে টানাটানি। কখনোই নিয়মিত বেতন দিতে পারে না পৌরসভাগুলো। এমন অবস্থা সারাদেশজুড়েই। কিন্তু আমাদের তো পরিবার-পরিজন আছে। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমাদের নিয়মিত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করুক সরকার এটাই আমাদের বড় চাওয়া।’

এদিকে জেলার কাটাখালি পৌরসভার সচিব সিরাজুম মনির বলেন, ‘কর্মবিরতির কারণে প্রতিদিন দুই-তিন শ জনসাধারণ এসে ঘুরে যাচ্ছে নানা কারণে। মূলত পৌরসভার সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদের দাবি আদায়ের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।’

এ পৌর এলাকার বাসিন্দা আকবর আলী জানান, তিনি একটি ব্যাংকে লোন করবেন। এর জন্য ট্রেড লাইসান্সে নবায়ন করতে গিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ঘুরছেন। আবার ট্রেডলাইসেন্স না পেয়ে লোনের জন্য আবেদনও করতে পারছেন না। এ নিয়ে তাঁর ব্যবসায়ীক দিক থেকে চরম বিপাকে পড়েছেন।

দুর্গাপুরের চৌবাড়িয়া এলাকার ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, পৌর এলাকার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাও বন্ধ হয়ে আছে। রাতে বিদ্যুতের লাইটগুলোও জ্বলছে না। ফলে মানুষ নানাভাবে ভোগান্তিতে পড়েছে। এই অবস্থা দ্রুত অবসান হওয়া দরকার।
স/আর

Print