লাইফ স্টাইল

সাপ্লিমেন্ট কি পুষ্টির ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট?

নিউজ ডেস্ক২১ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে অনেক সময় সাপ্লিমেন্টের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—সাপ্লিমেন্ট কি খাবারের বিকল্প হতে পারে?

বর্তমানে ডায়াবেটিস থেকে ক্যান্সার— বিভিন্ন লাইফস্টাইল ডিজিজের পেছনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে দায়ী করা হচ্ছে। তাই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা এখন বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের ওপর জোর দিচ্ছেন। মানুষও সচেতন হচ্ছে এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

তবুও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি থেকে যায়। তখন সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন পড়ে। তবে এর মানে এই নয় যে সাপ্লিমেন্ট খাবারের বিকল্প।

খাবার নাকি সাপ্লিমেন্ট— কোনটি বেশি কার্যকর?

পুষ্টিবিদদের মতে, ফল, শাকসবজি, বাদাম ও গোটাশস্যজাতীয় খাবার সাপ্লিমেন্টের তুলনায় অনেক বেশি উপকারী।

এসব খাবারে ভিটামিন সি, আয়রন, জিঙ্কসহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শরীরের একাধিক ঘাটতি একসঙ্গে পূরণ করে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১০০ গ্রাম আমলকিতে প্রায় ৬০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে— যা অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক উৎস।

ভিটামিন সি— খাবার থেকেই কেন ভালো?

আমলকির ভিটামিন সি দীর্ঘ সময় (প্রায় ৮০ মিনিট) ফোটালেও নষ্ট হয় না। তাই শুকনো আমলকি খেলেও শরীরে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

এছাড়া এতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট পাচনতন্ত্র ও লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হিমোগ্লোবিন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে, ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট খেলে এই বহুমাত্রিক উপকারিতা পাওয়া যায় না—যা প্রাকৃতিক খাবার থেকে পাওয়া সম্ভব।

খাবার কি শুধু পুষ্টির ঘাটতি মেটায়?

না, খাবারের ভূমিকা শুধু পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সীমাবদ্ধ নয়। ফল ও সবজিতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে নানা রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

এসব খাবার—

> শরীরে শক্তি জোগায়

> রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

> ক্যান্সার, হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

তাই শুধু সাপ্লিমেন্টের উপর নির্ভর করে থাকা কখনই যথেষ্ট নয়। সাপ্লিমেন্ট মূলত নির্দিষ্ট পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে, কিন্তু সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে না।

সাপ্লিমেন্ট কখন প্রয়োজন হয়?

বাজারে বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়— যেমন ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রোটিন ও প্রোবায়োটিক। এসব সাপ্লিমেন্ট শরীরে নির্দিষ্ট কোনো পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক। তবে এগুলো সামগ্রিক স্বাস্থ্য গঠনে খাবারের বিকল্প নয়।

কারা সাপ্লিমেন্ট থেকে উপকার পেতে পারেন?

কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট উপকারী হতে পারে—

> অনেক মহিলার শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকে, তাই চিকিৎসকেরা তাদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিতে বলেন

> অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময় মাল্টিভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে

> বয়স্ক ব্যক্তিরা যারা সলিড খাবার খেতে পারেন না

> যাদের শরীরে খাবার থেকেও পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট খাওয়া কি ঠিক?

না, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। কারণ—

> শরীরে কোন পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে তা আগে জানা জরুরি

> প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ডোজ নির্ধারণ করা দরকার

> ভুলভাবে সাপ্লিমেন্ট নিলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে

যদি খাবার থেকেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়, তাহলে আলাদা করে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সাপ্লিমেন্ট কখনই স্বাস্থ্যকর খাদ্যের বিকল্প নয়। যারা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন না বা হজমে সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। অনেক সময় খাবারের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টেরও প্রয়োজন হতে পারে।

তাই সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি— এটাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

 

সূত্র: যুগান্তর