লাইফ স্টাইল

মাটিতে হাত দিলেই ম্যাজিক, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

নিউজ ডেস্ক১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মাটি মানেই ময়লা—এ ধারণা বদলে দিলেন বিজ্ঞানীরা। এতদিন জীবাণু থেকে বাঁচতে মাটি, কাদা কিংবা শ্যাওলা এড়িয়ে চলার কথা শোনা গেলেও গবেষণা বলছে, সামান্য মাটিতে হাত দেয়া, ঘাসে বসা কিংবা গাছ স্পর্শ করার মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে স্বাস্থ্যের উপকার।

এমনকি প্রকৃতির এই সংস্পর্শ ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
ফিনল্যান্ডের পরিবেশবিদ ও প্রকৃতি-স্বাস্থ্য গবেষক মিরা গ্রনরোস এক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মাত্র ২০ সেকেন্ড মাটি ও শ্যাওলা দিয়ে হাত ঘষতে বলেন। পরে হাত ধোয়ার পরও দেখা যায়, তাদের ত্বকে অণুজীবের উপস্থিতি ও বৈচিত্র্য বেড়েছে। খালি চোখে হাত পরিষ্কার দেখালেও ত্বকের অণুজীবের জগতে ঘটে গেছে পরিবর্তন।

ত্বকে বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকার কথা শুনে অস্বস্তি হতে পারে। কিন্তু সব ব্যাকটেরিয়া যে ক্ষতিকর, তা নয়। বিভিন্ন ধরনের অণুজীব যখন ভারসাম্য রেখে একসঙ্গে বসবাস করে, তখন তারা একে অপরকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে ক্ষতিকর রোগজীবাণুর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমে যায়।

এই ধারণার বড় উদাহরণ ফিনল্যান্ডের অরিঙ্কোলিনা ডে-কেয়ার সেন্টার। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এই ডে-কেয়ারের মাঠে বনভূমির মাটি, পিট ও গাছ লাগানোর বাক্স রাখা হয়। নিয়মিত ২৮ দিন সেখানে খেলার এক বছর পর শিশুদের ত্বক, লালা ও অন্ত্রের অণুজীবের ওপর এর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, পাকা আঙিনায় খেলা শিশুদের তুলনায় বনভূমির মাটিতে খেলা শিশুদের ত্বকে অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য রোগজীবাণুর সংখ্যাও কম ছিল।

এই গবেষণা পরিচালনাকারী মারজা রসলুন্ডের মতে, রোগ হলো একনায়কতন্ত্রের মতো, আর সুস্থ ত্বক হলো গণতন্ত্রের মতো। অর্থাৎ ত্বকে অণুজীবের বৈচিত্র্য যত বেশি, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবশালী হয়ে ওঠার সুযোগ তত কম। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বনভূমির মাটিতে খেলার পর শিশুদের ত্বকে গামাপ্রোটিওব্যাকটেরিয়া নামের অণুজীবের বৈচিত্র্য বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে নিয়ন্ত্রক রেগুলেটরি টি-সেল, যা রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করে।

আর এই প্রভাব শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। হরমোনের কার্যক্রম, হৃদ্‌রোগ এমনকি মস্তিষ্কের কাজের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উঠে এসেছে গবেষণায়। এ কারণেই অরিঙ্কোলিনা কেন্দ্রের খেলার মাঠেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। সরকারি অর্থায়নে নুড়িপাথরের বদলে কাঠের টুকরা ব্যবহার করা হয়েছে, বড় করা হয়েছে বালুর এলাকা এবং তৈরি করা হয়েছে কাঠের পথ। এর পেছনে রয়েছে ‘জীববৈচিত্র্য হাইপোথিসিস’ আর তা হলো—বৈচিত্র্যময় জীবাণুসমৃদ্ধ বাতাস, গাছপালা ও মাটি মানুষের মাইক্রোবায়োমে প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে স্বাস্থ্যের ওপরও।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও প্রকৃতির সংস্পর্শে এমন উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাই বাগান করা, ঘাসে বসা কিংবা গাছ ছোঁয়ার মতো সহজ অভ্যাসও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে শরীরের অণুজীবের এক ধরনের যোগাযোগ। তবে প্রকৃতির সংস্পর্শ রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থায় ঠিক কীভাবে কাজ করে, তা জানতে প্রয়োজন আরও গবেষণার।