লাইফ স্টাইল

জ্যাকুলিনের পছন্দের ‘চিট মিল’ কোট্টু রুটি

নিউজ ডেস্ক২ মার্চ ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মুম্বাইয়ের পাওভাজির মতোই কোট্টু রুটি শ্রীলংকায় ভীষণ জনপ্রিয়। ঝাল ঝাল মসলাদার এ খাবারটি দেখলে ডায়েটও ভুলে যান বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ।

খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে বেশ খুঁতখুঁতে অভিনেত্রী। জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। কড়া ডায়েটও মেনে চলেন। কিন্তু শ্রীলংকা থেকে ভারতে আসার পর তিনি নিয়মিত যোগাভ্যাস শুরু করেন। বলি তারকাদের মধ্যে তার ফিটনেস নিয়ে রীতিমতো চর্চা হয়। খাওয়াদাওয়া নিয়ম মেনে করলেও খেতে ভালোবাসেন জ্যাকুলিন। সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, কোট্টু রুটি দেখলে তিনি সব ডায়েট ভুলে যান। তার কাছে ‘চিট মিল’ মানেই ঝাল ঝাল মসলা মাখানো কোট্টু রুটি।

কোট্টু রুটি শ্রীলংকার একটি জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। শ্রীলংকায় বেশ বিখ্যাত এ খাবারটির মূল উপকরণ হলো রুটি বা পাতলা পরোটা। সেগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নানা রকম সবজি, তরকারির ঝোলের সঙ্গে মিশিয়ে ভাজা হয়। মেশানো হয় নানা রকম মসলা। চিকেন দিয়ে বা নিরামিষও বানানো যায় কোট্টু রুটি। জ্যাকুলিন যেহেতু আমিষ ছেড়েছেন, তাই নিরামিষ কোট্টু রুটিই পছন্দ তার। তামিলনাড়ুতেও এমন একটি খাবার পাওয়া যায়, যাকে বলে ‘কোথু পরোটা’। সেটিও তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড।

নিরামিষ কোট্টু রুটির রেসিপি

কোট্টু রুটি মানে অনেকেই ভাবেন রুটি ও তরকারি মিশিয়ে খাওয়া। ঠিক তেমনটি নয়। এটি রাঁধার নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। বাড়িতে যদি রুটি বা তরকারি বেঁচে যায়, তা দিয়েও মুখরোচক এই পদটি বানিয়ে নেওয়া যায়।

উপকরণ

* এক বাটির মতো ছোট করে কাটা সবজি (গাজর, বিন, ক্যাপসিকাম ও কড়াই শুঁটি)।

* ২০০ গ্রাম পনির বা টোফু

* ২টি মাঝারি মাপের পেঁয়াজ

* ১ চামচ আদা ও রসুনবাটা

* ২টি কাঁচালংকা

* একটি ছোট দারুচিনির স্টিক

* ২টি ছোটএলাচ

* ৩টি লবঙ্গ

* একমুঠো কারিপাতা ফোড়নের জন্য

* এক চামচ কারি পাউডার বা গরম মসলা (নিতে পারেন)

* ১ চামচ কাশ্মীরি লংকার গুঁড়ো

* আধা চামচ হলুদগুঁড়ো

* ১ চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো

* ১টি মাঝারি মাপের টমেটো

* ১ কাপ নারিকেলের দুধ

* স্বাদমতো লবণ

কোট্টু তৈরির জন্য

* ৬টি পাতলা রুটি বা পরোটা কুচিয়ে নেওয়া

* রান্না করা সবজির ঝোল

* ১টি মাঝারি পেঁয়াজ কুচিয়ে নেওয়া

* ১ কাপ কুচানো বাঁধাকপি

* ১ চামচ সয়াসস

* লবণ ও গোলমরিচ

প্রণালি

তরকারি বানাতে প্যানে তেল গরম করে দারুচিনি, লবঙ্গ, ছোট এলাচ ও কারিপাতা ফোড়ন দিন। হালকা নাড়াচাড়া করে তাতে পেঁয়াজকুচি, আদা-রসুন বাটা ও কাঁচালংকা দিয়ে নাড়তে থাকুন। মসলা ভাজা হলে টমেটো দিন। এবার সব গুঁড়ো মসলা ও লবণ দিয়ে ভালো করে কষাতে থাকুন। প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন, যাতে মসলা পুড়ে না যায়। মসলা কষাতে কষাতেই তাতে কেটে রাখা সবজি ও পনিরের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। পনিরের বদলে টোফুও দিতে পারেন। ঢেকে রান্না করুন কিছুক্ষণ। এবার নারিকেলের দুধ মিশিয়ে দিন। এতে কারি ঘন হবে। রান্না হয়ে গেলে নামিয়ে রাখুন।

কোট্টু রান্নার জন্য

তরকারি রান্না হয়ে গেলে কোট্টু বানিয়ে নিন। প্যানে সামান্য তেল বা ঘি গরম করে তাতে কোট্টুর জন্য রাখা পেঁয়াজকুচি, কারিপাতা, কাঁচালংকা কুচি দিয়ে নাড়তে থাকুন। এতে বাকি গাজরের টুকরো ও কুচিয়ে রাখা বাঁধাকপি দিয়ে ভালো করে ভাজুন। তারপর টুকরো করে রাখা রুটি বা পরোটাগুলো দিয়ে দিন। মেশান রান্না করে রাখা তরকারি। লবণ গোলমরিচের গুঁড়ো ও সয়াসস দিয়ে ভালো করে ভাজতে হবে। ঝরঝরে হলে নামিয়ে নিন। উপরে ধনেপাতাকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।