সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
চাকরির জন্য আবেদন করার পর অনেকেই দিনের পর দিন অপেক্ষা করেন একটি ফোনকল, ই-মেইল বা বার্তার আশায়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো উত্তর আসে না।
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এই নীরবতাকে বলা হয় ‘ঘোস্টিং’।
এবার এমনই একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক চাকরিপ্রার্থী নিয়োগদাতাকে ই-মেইল করে জানতে চান, আবেদনটি কেন এগোয়নি। তিনি ভদ্র ভাষায় লেখেন, নির্বাচিত না হলেও আবেদনকারীদের অন্তত একটি আপডেট বা প্রত্যাখ্যানের বার্তা জানানো উচিত।
কারণ চাকরিপ্রার্থীরা প্রতিটি আবেদনের জন্য সময় ও শ্রম ব্যয় করেন।
কিন্তু এর জবাবে ওই এইচআর কর্মকর্তা লেখেন, ভবিষ্যতে এমন ই-মেইল না পাঠানোই ভালো। এতে নিয়োগদাতার কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘কেউ আপনাকে কিছু জানাতে বাধ্য নয়।
’
এই জবাব পেয়ে চাকরিপ্রার্থী আবারও শান্তভাবে উত্তর দেন। তিনি জানান, তার উদ্দেশ্য কাউকে দোষ দেওয়া নয়; বরং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় একটু স্বচ্ছতা ও পেশাদার আচরণ আশা করা। একটি ছোট্ট আপডেট বা প্রত্যাখ্যানের বার্তাও আবেদনকারীদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার স্ক্রিনশট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অধিকাংশ ব্যবহারকারী চাকরিপ্রার্থীর পক্ষ নেন। অনেকেই বলেন, বর্তমানে চাকরির বাজারে আবেদনকারীদের ‘ঘোস্টিং’ করা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে একজন আবেদনকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর পাঠানো পেশাদার আচরণেরই অংশ।
ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে একটি পদের জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ে। ফলে সব আবেদনকারীর সঙ্গে আলাদা করে যোগাযোগ করা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হয়ে যায়। তবু স্বয়ংক্রিয় ই-মেইল বা সংক্ষিপ্ত একটি বার্তার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব। এতে আবেদনকারীরা অযথা অপেক্ষা না করে অন্য সুযোগের দিকে এগোতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, চাকরি খোঁজার সময় আবেদনকারীদেরও ধৈর্য ধরে পেশাদারভাবে যোগাযোগ করা উচিত। আর প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত, আবেদনকারীদের সময় ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অন্তত একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া। কারণ ছোট একটি বার্তাও চাকরিপ্রার্থীর অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি ইতিবাচক করে তুলতে পারে।









