লাইফ স্টাইল

গর্ভাবস্থায় টাইলেনল সেবন নিরাপদ, অটিজমের ঝুঁকি নেই : গবেষণা

নিউজ ডেস্ক১৬ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

গর্ভাবস্থায় সামান্য জ্বর বা ব্যথা—এ সময় কী ওষুধ নেওয়া যাবে, তা নিয়ে অনেক মায়ের মধ্যেই দুশ্চিন্তা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে গর্ভাবস্থায় ব্যথানাশক ওষুধ অ্যাসিটামিনোফেন (ব্র্যান্ড নাম টাইলেনল) সেবন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই অ্যাসিটামিনোফেন হলো আমাদের দেশের প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ। এটি গর্ভাবস্থায় সেবনে শিশুদের অটিজম হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে ১৫ লাখেরও বেশি শিশুকে নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল জামা পেডিয়াট্রিক্সে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। ডেনমার্কভিত্তিক এই গবেষণায় ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ১৫ লাখ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফল বলছে, গর্ভাবস্থায় টাইলেনল ব্যবহার এবং শিশুদের অটিজম হওয়ার মধ্যে কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বরং যেসব শিশু গর্ভাবস্থায় টাইলেনলের সংস্পর্শে এসেছে তাদের মধ্যে প্রায় ১.৮ শতাংশ অটিজমে আক্রান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, যারা টাইলেনলের সংস্পর্শে আসেনি, তাদের মধ্যে এই হার ছিল ৩.০ শতাংশ।
গবেষকদের মতে, অটিজমের পেছনে মূলত জিনগত ও পরিবেশগত নানা জটিল কারণ কাজ করে। একে কোনো একটি ওষুধ বা টিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মতো প্রমাণ নেই। এর আগেও সুইডেনে করা আরেকটি গবেষণায় একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে।

সুইডেনে ভাইবোনদের ওপর করা সেই গবেষণায়ও গর্ভাবস্থায় টাইলেনল ব্যবহারের সঙ্গে অটিজমের কোনো কারণগত সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষকরা বলছেন, অটিজমের পেছনে জিনগত ও পরিবেশগত নানা কারণ থাকতে পারে, তবে টাইলেনল গ্রহণের কারণ হিসেবে প্রমাণিত হয়নি।

এই নতুন গবেষণা এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই গর্ভবতী নারীদের টাইলেনল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘টাইলেনল নেবেন না… খুব বেশি জ্বর হলে ছাড়া এটি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর অনেক মা দ্বিধায় পড়ে যান— টাইলেনল ওষুধ খাবেন কি নেবেন না।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) বিষয়টি পর্যালোচনা করে ওষুধের লেবেল হালনাগাদের উদ্যোগ নেয়। অ্যাসিটামিনোফেনের লেবেল হালনাগাদ করার প্রক্রিয়াও শুরু করে। যেখানে গর্ভাবস্থায় এর ব্যবহার ও অটিজমের সম্ভাব্য সম্পর্ক উল্লেখ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে, টাইলেনল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কেনভও স্পষ্টভাবে জানায়—বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অটিজমের সঙ্গে অ্যাসিটামিনোফেনের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, “স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে অ্যাসিটামিনোফেন অটিজমের কারণ নয়। তাই এ ধরনের দাবি আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”

এবিসি নিউজ এ বিষয়ে টাইলেনল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কেনভও- এর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পায়নি।

এদিকে চিকিৎসকদের অবস্থানও পরিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একটি শীর্ষস্থানীয় পেশাদার সংস্থা আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস। এমন চিকিৎসা সংগঠনগুলোও বিতর্কিত মন্তব্যের আপত্তি জানায়।

চিকিৎসা সংগঠনগুলো বলছে, গর্ভবতী নারীদের জন্য ব্যথা ও জ্বর নিয়ন্ত্রণে টাইলেনল অন্যতম নিরাপদ বিকল্প। কারণ, জ্বর বা ব্যথা দীর্ঘ সময় চিকিৎসাবিহীন থাকলে তা মা ও ভ্রূণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে, আইবুপ্রোফেন (যেমন অ্যাডভিল) গর্ভাবস্থায় সাধারণত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে জটিলতার আশঙ্কা থাকে।

তবুও বিভ্রান্তির প্রভাব স্পষ্ট। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওই বিতর্কিত মন্তব্যের পর জরুরি বিভাগে টাইলেনল ব্যবহারের হার প্রায় ১৬ শতাংশ কমে গেছে।

গর্ভাবস্থায় যেকোনো ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে—টাইলেনল নিয়ে অযথা ভয় পাওয়া ঠিক নয়। এর সঙ্গে অটিজমের সম্পর্ক নেই।