তাজা তরুণ আর চিরসবুজ যেন শতবর্ষী বটগাছটি

February 12, 2018 at 6:54 pm

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই :

কালের সাক্ষী হয়ে শত শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের পার্শ্বের কদমতলার বট গাছটি। শুধু এটিকে বট গাছ বললে যেন ভুল হবে। গাছাটি যে শত বছরের স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে। পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে গাছটির শাখা-প্রশাখা। কী শোভা, কি ছায়া গো, কি স্নেহ, কি মায়াগো, কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর ক’লে ক’লে। বিশ্বকবি রবিঠাকুর রচিত আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের এ চরণে গ্রাম বাংলার অপরুপ শোভা, ছায়া-মায়া ও স্নেহের আঁচল বিছানো স্থান যেন আমাদের বটবৃক্ষের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তেমনি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের আদর্শগ্রামের পূর্ব পার্শ্বে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের এ বটগাছটি।

শতবর্শী এ বটগাছটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাজা তরুণ আর চিরসবুজ। যেন বার্ধক্যের ছাপ লাগেনি তার গায়ে। আর সে কারণেই এ বটগাছকে ঘিরে নানা রহস্যে ঘেরা গল্প-কাহিনী আর কল্পগাথা।

তথ্যঅনুসন্ধানে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদেও সাথে কথা বলে জানা যায়, শের শাহ্ বাদশার আমলে গ্রান্ডটাংক রোড নির্মান কালে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম সংলগ্নে এ বটগাছটি রোপন করা হয়েছিল। যার বয়স এখন শত বছর পেরিয়ে গেছে। এ বট বৃক্ষের গা ঘেসে একটি কদম গাছের জন্ম হয়। আর সে কারনেই এ জায়গাটির নামকরণ করা হয়েছিল কদমতলা। এখন সে কদম গাছটি আর নেই কিন্ত কালের আবর্তে যুগ যুগ ধরে আজও তার স্মৃতিটুকু রয়ে গেছে। শের শাহ্ বাদশার আমলে এ এলাকা বিল অঞ্চল ছিল। রোদ বৃষ্টির মাঝে কৃষাণ-কৃষাণী তাদের কষ্টের ফসল ফলাতো। রাখালেরা দিগন্তজুড়া মাঠে ঘাস খাওয়ানোর জন্য গবাদিপশুকে ছেড়ে দিয়ে ক্লান্ত শরিরে শীতল ছায়ার প্রতিক্ষায় থাকতো। আর সে কারণেই এই বটবৃক্ষ রোপন করা হয়েছিলো বলে জানা যায়। তাই গ্রীষ্মের দাবদাহে কৃষক যখন অতিষ্ট ঠিক তখনই একটু শীতল ছায়ার আশায় এ বট বৃক্ষের নীচে জমা হতো।

এ বটবৃক্ষ সম্পর্কে আলাপচারিতায় ভবানীপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা মো: আব্দুল আজিজ সিল্কসিটি নিউজকে জানান, আমার জন্মের পর থেকেই এ বটগাছটি দেখে আসছি । এই বটগাছের কত বয়স হবে তা আমরা সঠিক ভাবে বলতে পারবো না। বর্তমানে বটগাছের নিচে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম ঘটে। এ বটগাছটি যেন সেই আদিম সনাতন সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সারকথা আজও সবার সামনে তুলে ধরে আছে। এদিকে অযত্ন-অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও নানামুখী অত্যাচারের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী বটগাছের অস্তিত্ব আজ নষ্ট হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বট গাছটি দেখতে আসে লোকজন বছরের প্রায় প্রতিদিন। তাদের জন্য বিশ্রাম বা বসার জায়গাটুকু ও এখানে নেই। তবে বিশ্বায়নের যুগে ডিজিটাল দেশ গঠনের পাশাপাশি ক্লান্ত কৃষাণের প্রাণ জুড়ানো সবুজ প্রকৃতির বটের ছায়ার কোন বিকল্প নেই। তাই ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিবছর বৃক্ষরোপন সপ্তাহ উদযাপন কালে আমাদের বটের চারা রোপন করা উচিত।

এ ব্যাপারে শাহাগোলা ইউনিয়ন দলিত মানবাধিকার কর্মী শ্রী দিনেশ কুমার পাল জানান, দাদার কাছে শুনেছি এ গাছের ডালপালা আগে কেউ কাটতো না। গাছটি শাখা প্রশাখার নিচে শত শত কৃষকেরা বিশ্রাম নেই এমন কি বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার পর্যটকরা এসে থাকেন। ঐতিহাসিক এ বট গাছটি সংরক্ষণ করা হলে দিন দিন পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন এই বট বৃক্ষটি সংরক্ষন এবং এই স্থানটিতে দর্শনার্থী দের বসার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এখানে আরো লোকের সমাগম ঘটবে এবং ভবিষ্যতে এ বটবৃক্ষ পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হবে। এলাকাবাসীর দাবী এই ঐহিত্যবাহি বটগাছটি রক্ষায় যেন প্রশাসনের সু-দৃষ্টি পড়ে এবং তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

স/অ

Print