নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলায় হাইকোর্টে রায় রবিবার

August 12, 2017 at 10:22 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফরেন্স ও আসামিদের করা আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে রবিবার। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয় গত ২৬ জুলাই। ওইদিনই রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়। গত ২২ মে থেকে এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী, এসএম শাহজাহান প্রমুখ।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ হত্যাকাণ্ড ক্ষমার অযোগ্য। নিম্ন আদালতে লোমহর্ষক ঘটনার জন্য আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ সাজা বহাল থাকা উচিত। কারণ এ হত্যার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত।

এতে জনগণ বুঝবে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। যে বাহিনীরই লোকই হোক না কেন আইনের চোখে সবাই সমান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান শুনানিতে বলেছেন, ১৩ দিন পুলিশ হেফাজতে রেখে আসামির (মেজর আরিফ) স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। এটা আইনানুগ হয়নি। এছাড়া স্বীকারোক্তির বক্তব্য অসংলগ্ন। এসব কারণে আসামিরা খালাস পেতে পারেন।

এ মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি রায় দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ নদীতে ডুবিয়ে গুম করার দায়ে আরেক কাউন্সিলর নুর হোসেন, র‌্যাবের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ওই রায়ে। এছাড়া মোট ৩৫ জন আসামির বাকী নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীমকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নুর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল দু’টি মামলায় পৃথক দুটি চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়। দু’টি মামলায়ই ৩৫ জন করে আসামি করা হয়।

Print