আত্রাই ও গুড় নদীর পানি প্রবেশ করছে চলনবিলে, বোরো ধান নিয়ে আতঙ্কে কৃষকরা

April 25, 2017 at 4:15 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষনে আত্রাই এবং গুড় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে এবার চলনবিলে প্রবেশ করছে বর্ষার পানি। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের প্রায় শতাধিক কৃষক। বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুরচিন্তায় দিন কাটছে চলনবিলের কৃষকদের। শ্রমিক সংকট থাকায় ধানও কাটতে পারছেনা চাষীরা। ফলে অকালে ফসল ডুবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছেন চাষীরা। এদিকে, পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে জরুরী ভাবে এলাকায় মাইকিং করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এলাকাবাসীরা জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সিংড়া উপজেলার আত্রাই এবং গুড় নদীর পানি ভয়াবাহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধির কারণে জোড় মল্লিকা, নিংগইন এবং পাটকোল ব্রীজের নিচ দিয়ে চলনবিলের ফসলি জমিতে প্রতিনিয়ত পানি প্রবেশ করছে। এতে নিংগইন, বালুভরা, হাসপুকুরিয়া, শেরকোল, তেলীগ্রাম, ভাগনাগরকান্দি মাঠের বোরো ধান ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উপজেলার নূরপুর, ভাগনাগরকান্দি সহ বেশ কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে বোরো ধান। হাটু পানির ভিতর থেকে ধান কাটছে কৃষকরা।
নিংগইন এলাকার কৃষক আলহাজ্ব আশকান আলী জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি জোড়মল্লিকা বিলে ১৫বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করেছেন। হঠাৎ নদীর পানি বিলে প্রবেশ করায় প্রায় শতাধিক কৃষক আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।


আরেক কৃষক জব্বার আলী বলেন, যে ভাবে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে, এই ভাবে চলতে থাকলে চলনবিলের সকল ধান তলিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, বছরে একটি মাত্র ফসল, তাও যদি তলিয়ে যায়, তাহলে ছেলে সন্তান নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
এদিকে, সোমবার সকালে খবর পেয়ে জোড় মল্লিকা, নিংগইন এবং পাটকোল এলাকায় জরুরী ভাবে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ নিংগইন এলাকায় বাধ নির্মানের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া উপজেরার সিদাখালি এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করার কারনে সেখানকার কৃষকদের নিয়ে মিটিং করছে স্থানীয় শেরকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল।
ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল বলেন, ভারী বর্ষনের কারনে চলনবিলের বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারনে পানি চলনবিলে প্রবেশ করছে। জরুরী ভাবে সকালে দুটি স্থানে বাধ নির্মান করা হয়েছে। আরো কয়েকটি স্থানে নির্মান করার জন্য পরিকল্পনা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আত্রাই নদীতে ঢলের পানি উপচে চলনবিলে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। কিন্তু বাধ দেওয়ার কারণে এখন আর প্রবেশ করছে না। তবে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে চলনবিলে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, টানা ভারী বর্ষনের নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে চলনবিল এলাকায় পানি ঢুকছিলো। পানি যাতে না ঢুকতে পারে সে জন্য দুটি স্থানে তাৎক্ষনিক ভাবে বাঁধ নির্মানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আগামী তিন চারদিন আবহাওয়া ভাল থাকলে নদী পানি কমে যাবে। তখন ফসলের আর কোন ক্ষতি হবে না।
উল্লেখ্য, এবার চলনবিলের সিংড়ায় ৩৭হাজার ২’শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। আর এই উপজেলা থেকে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ মেট্রিক টন।

স/অ

Print