নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় করেন চালকরা। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস চালকদের মঙ্গলবার রাত ১০ টার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পাম্পগুলোতে তেল নিতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে গাড়ির ট্যাংকি পূর্ণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত জারকিন বা বোতলেও তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই চালকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর একের পর এক গাড়ি বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি চাপ পড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে।
নগরীর শালবাগান, আলুপট্টি, ভদ্রাসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে এসব ভিড় দেখা যায়।

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলচালক সোহেল রানা বলেন, “শুনেছি আজকের পর হয়তো তেল পাওয়া যাবে না বা সরবরাহ কমে যাবে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে ট্যাংকি ভর্তি করে নিলাম।”
আরেকটি প্রাইভেটকারের চালক আব্দুল মজিদ বলেন, “গুজব সত্য কি না জানি না। কিন্তু সবাই যখন তেল নিচ্ছে, তখন আমিও এসে ট্যাংক ভরে নিচ্ছি। পরে সমস্যায় পড়তে চাই না।”
আফরিন ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ করেই গাড়ির চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে অল্প কিছু যানবাহন আসে, সেখানে একসঙ্গে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে হয় চালকদের। তবে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তেল বিক্রি করা হয়েছে।
এনবি ফিলিং স্টেশনেন ব্যবস্থাপক আসলাম উদ্দিন বলেন, “আমাদের কাছে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সংকটের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। গুজবের কারণে মানুষ একসঙ্গে বেশি পরিমাণে তেল নিতে আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কেনা বা মজুত না করেন। পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স.আর









