জাতীয়

৬ মাস ধরে কাদায় বাঁধা ৪ মহিষ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক১৭ আগস্ট ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বুকসমান কাদায় বেঁধে রাখা চারটি মহিষ উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেনের নজরে আসে।

পরে তার হস্তক্ষেপে মহিষগুলোকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের গোকুলনগর গ্রামে আব্দুল আলিম ৬ মাস ধরে বুকসমান কাদায় মহিষগুলো বেঁধে রেখেছিলেন। সেখানে মহিষগুলোকে খাবার খেতে হতো, এমনকি ঘুমাতেও হতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এমন অস্বাভাবিক ও কষ্টকর পরিবেশে থাকার কারণে মহিষগুলোর অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছিল।

মহিষগুলোকে কাদা থেকে তুলে নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করলেও আলিম তা শোনেননি। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুর রহিম মহিষগুলোর দুর্দশার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। ভিডিওটি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের নজরে এলে মহিষগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেন তিনি।

স্থানীয় পশুপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রাণীরা মানুষের মতো নিজেদের কষ্টের কথা বলতে পারে না।

কিন্তু তাদেরও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। চারটি মহিষকে দীর্ঘদিন ধরে বুকসমান কাদার মধ্যে আটকে রাখার দৃশ্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।
আব্দুল আলীমের মা সত্য খাতুন বলেন, ছেলেকে একাধিকবার বলেছি মহিষগুলোকে ভালো স্থানে রাখতে। কিন্তু সে কারো কথা শোনেনি। মহিষগুলোকে কাদার মধ্যে বেঁধে রেখে সব সময় ওখানেই খেতে দিত।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মহিষগুলোকে উদ্ধার করে ভালো স্থানে রাখা হয়েছে। মহিষের মালিককে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মহিষগুলোর জন্য পর্যাপ্ত শুকনো মেঝে, খাবার পানি ও নিরাপদ বসবাসের যোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।