জাতীয়

‘জিনের বাদশা’ সেজে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি, গ্রেপ্তার ২

নিউজ ডেস্ক২১ অক্টোবর ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

কখনো পরিচিত ব্যবসায়ীর পরিচয়ে কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন, কখনো ‘জিনের বাদশা’ সেজে ভয়ভীতি দেখানো, আবার কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ পরিচয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস—এভাবেই মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণা করত একটি চক্র। রাজবাড়ীর এক চাল ব্যবসায়ীর ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলার তদন্তে এমন প্রতারণার তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনায় চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, প্রতারণার শিকার চাল ব্যবসায়ী রশিদুল ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ তার পরিচিত বিজয় বাবুর পরিচয় ব্যবহার করে তাকে ফোন করেন চক্রের এক সদস্য। ফোনে ৩৩ টন চাল সুলভ মূল্যে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরিচিত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করায় প্রস্তাবটি বিশ্বাস করেন রশিদুল।
পরে জরুরি প্রয়োজনে টাকার দরকার বলে জানিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন নম্বরে কয়েক দফায় তার কাছ থেকে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে চাল সরবরাহ না করায় সন্দেহ হয় ব্যবসায়ীর। পরে প্রকৃত বিজয় বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, চাল বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানেন না ওই ব্যক্তি।

এভাবেই পরিচিতজনের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার শিকার হন রশিদুল।
এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা হলেও দীর্ঘ আট মাসেও রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি পিবিআই ফরিদপুরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামের দিকনির্দেশনায় উপপরিদর্শক মাজিদুল হক খান তদন্ত শুরু করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আর্থিক লেনদেনের সূত্র অনুসরণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় এক বছরের অনুসন্ধান শেষে চক্রটির দুই সদস্যকে শনাক্ত করা হয়।

পরে ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

যেভাবে প্রতারণা করত চক্রটি

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি শুধু কম দামে চাল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়েই প্রতারণা করত না। কখনো গভীর রাতে নারীকণ্ঠে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে মানুষকে ভয় দেখানো হতো। আবার কখনো তান্ত্রিক-কবিরাজ সেজে গোপন রোগ নিরাময় কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করত তারা।

চক্রটিতে প্রায় পাঁচজন সদস্য ছিল বলে জানিয়েছে পিবিআই। তাদের কেউ ফোন করে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলত, কেউ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) নম্বর সরবরাহ করত। অন্য সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা তুলে সংগ্রহ করত। প্রতারণার কাজে ভুয়া পরিচয়ে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার এবং লেনদেনের পর সিম ফেলে দেওয়ার কৌশলও অনুসরণ করত তারা।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে চক্রের অন্য সদস্যদের পরিচয় ও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।

ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম প্রতারণামূলক ফোনকল ও লোভনীয় প্রস্তাব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিচিত ব্যক্তির পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লেনদেন করা উচিত। পাশাপাশি অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রস্তাবেও সতর্ক থাকতে হবে।

৩৩ টন চাল কেনার প্রলোভনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হারানোর এ ঘটনা পরিচয় যাচাই না করে অর্থ লেনদেনের ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।