সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
সাভারের উলাইল এলাকার এক হাসপাতালে চিকিৎসার অবহেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালটি ভাঙচুর করেছে রোগীর স্বজনরা।
ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সাভারের উলাইল এলাকার আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশুর নাম আবরাহাম। সে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার রাজনগর নোয়াদ্দা এলাকার বাসিন্দা।
তার বাবা আল আমিন দুবাই প্রবাসী। শিশুটি মায়ের সঙ্গে বসবাস করত।
মৃত শিশুর মামা মো. রুবেল জানান, নাকের পলিপাস অপারেশনের জন্য বুধবার সকালে আবরাহামকে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আসার সময় সে নিজেই চলাফেরা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিল।
তার বড় কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল না। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছিল না।
শিশুটির চাচা আমিনুর রহমানের অভিযোগ, হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. শাহীন আবরাহামকে অজ্ঞান করার পর নাক ও গলার অপারেশনের জন্য চিকিৎসক সুমন হোসাইন তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তাকে এনাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসক আবরাহামকে মৃত ঘোষণা করেন।
আবরাহামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনরা আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় হাসপাতালের অভ্যর্থনাকক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিশুটির মৃত্যু ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতালে গিয়ে কথা বলার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের মালিক ডা. আব্বাস উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয়ে মজিবুর রহমান দাবি করেন, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর নাক দিয়ে ক্যানুলা প্রবেশ করানোর সময় শিশুটি তা সহ্য করতে পারেনি। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ তাকে দ্রুত এনাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে বারী বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। এ ছাড়া মৃত শিশুর স্বজনেরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, শিশু মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









