সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
১২০ একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা ঢেমুশিয়া জলমহালের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার। বয়ে গেছে কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার উপকূলীয় সাত ইউনিয়নের ওপর দিয়ে।
টানা ১৭ বছর ছিল লিজ দেওয়া। অবশেষে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো জলমহালটি।
সরকারিভাবে জলমহালটি আর লিজ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ‘জাল যার জলা তার’ নীতিরও বাস্তবায়ন হলো। এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে মৎস্যজীবীদের মধ্যে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টানা ১৭ বছর ধরে তিন বছর অন্তর সামান্য টাকায় লিজ দেওয়া হতো বিশাল আয়তনের ঢেমুশিয়া জলমহাল। ফলে সেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশ ছিল কার্যত নিষিদ্ধ। এতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহকারী মৎস্যজীবী এবং দুই পাশের হাজারো পরিবারের সদস্যরা প্রাত্যহিক কাজে এর পানিও ব্যবহার করতে পারতেন না।
এমনকি সরকারিভাবে লিজ নিয়ে স্লুইস গেটের জলকপাট খুলে দিয়ে মিঠাপানির একমাত্র উৎস জলমহালের ভেতর প্রবেশ করানো হতো লবণ পানি।
এতে হাজারো কৃষক তাদের কৃষিজমিতে জলমহাল থেকে সেচ দেওয়া থেকেও বঞ্চিত হতেন। এতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হতো উপজেলার সাত ইউনিয়নের মানুষকে।
মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এ উপজেলার সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, ভেওলা মানিকচর ও বদরখালী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল ঢেমুশিয়া জলমহাল লিজ না দেওয়ার।
সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে এবার আর নতুন করে বদ্ধ জলমহালটি ইজারা দেওয়া হয়নি। এখন থেকেই ঢেমুশিয়া জলমহাল জনগণের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে এবং জনগণ তাদের প্রাত্যহিক কাজে জলমহালের পানি ব্যবহার করবে।
এ ছাড়া স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মাছ শিকারের মাধ্যমে এর সুফল ভোগ করবেন।
ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের খাসপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা ছিদ্দিক আহমদ (৮৫), মৎস্যজীবী মোহাম্মদ সুমনসহ বদ্ধ জলমহালের দুই পাশের কয়েকজন বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, শত শত বছর ধরে ঢেমুশিয়া বদ্ধ জলমহালের পানি ব্যবহার করে আসছিলেন তারা।
তাদের ভাষ্য, জলমহালটিতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত শত শত জেলে পরিবার। এমনকি এর মিঠা পানি দিয়েই উপকূলীয় এলাকার ফসলি জমিতে ধান ও নানা রকমের সবজির আবাদ হতো। এতে স্থানীয়রা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া ছাড়াও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতেন। কিন্তু গত ১৭ বছর সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সামান্য টাকায় লিজ দেওয়ার নামে।
ভুক্তভোগী এসব লোকজনের মুখে হাসি ফুটেছে দাবি করে তারা আরো বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল এই জলমহাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে লিজ না দেওয়ার। লিজ দিলে আমাদের বহুমুখী সমস্যা হওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সংসদ নির্বাচনে তিনি (সালাউদ্দিন আহমদ) নির্বাচনী প্রচারণার সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন জলমহালটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশেষে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো।’
কক্সবাজার জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মৎস্যজীবী প্রতিনিধি জাফর আলম বলেন, ‘ঢেমুশিয়া বদ্ধ জলমহাল এখানকার কৃষক, স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায় এবং খেটে খাওয়াসহ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে চাষাবাদ নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এ ব্যাপারে মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘এখানকার জনগণের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে নতুন করে ঢেমুশিয়া বদ্ধ জলমহালটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।’
ইউএনও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে কেউ কেউ এই জলমহালের অংশ যে যার মতো করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ড যারাই করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









