সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
নামাজ মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। পুরুষের জন্য মসজিদের জামাতে নামাজ আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
তবে অসুস্থতা, প্রবল বৃষ্টি, সফর, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা কিংবা অন্য কোনো শরয়ি ওজরের কারণে কখনো মসজিদের জামাত ছুটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করা একটি সুন্দর ও বরকতময় আমল। কিন্তু ঘরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে নামাজ পড়লে স্ত্রী কোথায় দাঁড়াবেন—স্বামীর পাশে, নাকি পেছনে? আর একসঙ্গে জামাত না করে প্রত্যেকে আলাদাভাবে নামাজ পড়লে পাশাপাশি দাঁড়ানোর বিধান কী? বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামী শরিয়ত এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতে নামাজের ব্যাপারে হাদিসে অত্যন্ত গুরুত্ব এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আজানের আহ্বান শুনেও কোনো ওজর ছাড়া জামাতে উপস্থিত হয় না—তার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি ওজর হিসেবে ভয় ও অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন।’ (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫১)
এ কারণে কোনো পুরুষের জন্য মসজিদের জামাত সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও শুধু স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঘরে জামাত করার অভ্যাস করা উচিত নয়।
বরং মসজিদের জামাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর বাস্তব কোনো ওজরের কারণে মসজিদের জামাত ছুটে গেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে জামাত করা যেতে পারে।
যদি স্বামী ও স্ত্রী জামাতের ইকতিদা না করে প্রত্যেকে নিজ নিজ নামাজ আলাদাভাবে আদায় করেন, তাহলে পাশাপাশি দাঁড়ানোতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ এখানে স্ত্রী স্বামীর ইমামতি অনুসরণ করছেন না; দুজনই স্বতন্ত্রভাবে নামাজ আদায় করছেন। তবে স্বামী-স্ত্রী যখন একসঙ্গে জামাত করেন, তখন বিধান ভিন্ন।
স্বামী ইমাম হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে জামাত করলে স্ত্রী স্বামীর পাশে বরাবর দাঁড়াবেন না; বরং তাঁর পেছনে দাঁড়াবেন। এটি নারী-পুরুষের জামাতের শরয়ি নিয়ম। অর্থাৎ—স্বামী → সামনে ইমাম হিসেবে দাঁড়াবেন আর স্ত্রী → তাঁর ঠিক পেছনে দাঁড়াবেন। কেননা স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে একই কাতারে দাঁড়ালে জামাতের নিয়ম লঙ্ঘিত হবে। (রদ্দুল মুহতার, ১/৫৭২; ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত, ৩/৪৫৪)
নারী-পুরুষের কাতারের এই ব্যবধান রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আনাস (সা.) বলেন, অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ (সা.) আনাস (রা.) এবং তাঁর মা অথবা খালাকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন। তিনি আনাস (রা.)-কে নিজের ডান পাশে দাঁড় করান এবং নারীকে তাঁদের পেছনে দাঁড় করান। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬০/১৩৭৭—সংস্করণভেদে নম্বর ভিন্ন হতে পারে)
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, জামাতে একজন পুরুষ ও একজন নারী থাকলে পুরুষ ইমামের সামনে এবং নারী তাঁর পেছনে দাঁড়াবেন। তবে ঘরে স্বামী-স্ত্রী ও নাবালেগ সন্তানদের নিয়ে জামাত হলে সাধারণভাবে স্বামী সামনে ইমাম হিসেবে দাঁড়াবেন। স্ত্রী তাঁর পেছনে দাঁড়াবেন। আর যদি নাবালেগ ছেলে সন্তানও জামাতে থাকে, হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সে ইমামের ডান পাশে দাঁড়াবে; স্ত্রী দাঁড়াবেন তাঁদের পেছনে। (বাদায়েউস সানায়ে, ১/৩৮৫; আল-বাহরুর রায়েক, ১/৩৪৫; আদ্দুররুল মুখতার, ১/৫৫৩)
এক নজরে বিধান
১. স্বামী-স্ত্রী আলাদাভাবে নামাজ পড়লে: পাশাপাশি দাঁড়ানো জায়েজ।
২. স্বামী ইমাম, স্ত্রী মুক্তাদি হলে: স্ত্রী স্বামীর পাশে নয়, বরাবর পেছনে দাঁড়াবেন।
৩. স্বামী, স্ত্রী ও নাবালেগ ছেলে থাকলে: ছেলে ইমামের ডান পাশে এবং স্ত্রী পেছনে দাঁড়াবেন।
৪. মসজিদের জামাত কোনো শরয়ি ওজরে ছুটে গেলে: ঘরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জামাত করা উত্তম।
৫. বিনা ওজরে মসজিদের জামাত ত্যাগ করে নিয়মিত ঘরে জামাত করা ঠিক নয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করে তা সঠিক নিয়মে ও একাগ্রতার সঙ্গে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।









