ধর্ম

সন্তানকে যেসব সম্পদ দিয়ে যাওয়া উচিত

নিউজ ডেস্ক২১ মে ২০২৬৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

সন্তান মহান আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাদের সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা ও সামর্থ্য অনুযায়ী নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা মা-বাবার দায়িত্ব।

মানুষ সাধারণত সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য ধন-সম্পদ রেখে যাওয়াকেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা মনে করে। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত নিরাপত্তা শুধু অর্থে নয়; বরং এমন জীবনভিত্তিক সম্পদে, যা একজন মানুষকে ঈমানদার, আত্মমর্যাদাশীল, আল্লাহভীরু ও স্বাবলম্বী করে তোলে। তাই ইসলাম সন্তানকে নিঃস্ব রেখে যেতে নিরুৎসাহ করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবি সাআদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-কে বলেছেন, ‘তুমি তোমার ওয়ারিশদের অভাবমুক্ত রেখে যাওয়া, তাদের খালি হাতে পরমুখাপেক্ষী অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।

’ (বুখারি, হাদিস : ১২৯৫)
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে ‘সচ্ছলতা’ শুধু জমিজমা বা ব্যাংক ব্যালান্স নয়। কারণ টাকা একসময় শেষ হয়ে যেতে পারে, ব্যবসা একসময় বন্ধ হতে পারে, কখনো কখনো জমিও বিক্রি করা লাগতে পারে। কিন্তু কিছু সম্পদ আছে, যা মানুষকে বারবার দাঁড়ানোর শক্তি দেয়। তাই একজন মুমিন মা-বাবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো সন্তানকে এমন সম্পদ দিয়ে যাওয়া, যা তাকে দুনিয়ায় সম্মানিত ও আখিরাতে সফল করবে।

নিম্নে সেই সম্পদগুলোর কয়েকটি তুলে ধরা হলো—
ঈমান : সন্তানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো, তাকে বিশুদ্ধ ঈমান শিক্ষা দেওয়া। ছোটবেলা থেকেই একজন ঈমানদার বান্দা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা। যে হৃদয়ে আল্লাহভীতি নেই, তার হাতে বিপুল সম্পদও অনেক সময় ধ্বংসের কারণ হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৬)

আদব ও চরিত্র : ভদ্রতা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, নবীজির সুন্নত পালন, মানুষের হক আদায়—এসব এমন সম্পদ, যা মানুষকে সমাজে সম্মানিত করে, আখিরাতে মুক্তি পেতে সহায়তা করে।

আইউব ইবনে মুসা (রহ.) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো পিতা তার সন্তানকে উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে বেশি উত্তম কোনো জিনিস দিতে পারে না। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৫২)
দ্বিনি ইলম ও সমসাময়িক জ্ঞান : ইসলামের মৌলিক জ্ঞানার্জন করা ফরজ। একজন মুমিনের জন্য ইসলামী জ্ঞানের পাশাপাশি সমসাময়িক জ্ঞান অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অজ্ঞ মানুষ সহজেই প্রতারিত হয়, আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিজের সম্পদও রক্ষা করতে পারে না। তাই সন্তানকে এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা তাকে চিন্তাশীল ও দক্ষ মানুষ হিসেবে তৈরি করে। ঈমানের পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতা মানুষকে শক্তিশালী করে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, শক্তিশালী মুমিন ব্যক্তি দুর্বল মুমিন ব্যক্তির তুলনায় উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৬৮)

হালাল উপার্জনের যোগ্যতা : সন্তানকে ঈমান, জ্ঞান ও আদব শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি হালালভাবে উপার্জনের যোগ্যতা তৈরি আবশ্যক। কেননা মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো খায় না।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৭২)

তা ছাড়া হালাল উপার্জনের যোগ্যতা, ব্যবসাবোধ ও বিনিয়োগের শিক্ষা তাকে নিজের সম্পদ বাড়াতে যেমন সাহায্য করবে, তেমনি ইসলাম ও মুসলমানের প্রয়োজনে সহযোগিতা করতেও সক্ষম করবে।

পবিত্র পরিবেশ : সন্তানকে নেক পরিবেশ দেওয়া। নেককার মানুষদের সংস্পর্শে নেওয়া, মসজিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা; কোরআনের প্রতি ভালোবাসা ও চর্চার অভ্যাস মানুষকে এমনভাবে গড়ে তোলে, যা কোনো অর্থ দিয়ে কেনা যায় না। কারণ দুনিয়ায় মানুষের মহব্বত যাদের সঙ্গে হবে, আখিরাতেও তারা তার সঙ্গী হবে। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩৫৩)

কোরআনও আখিরাতের সুপারিশকারী হবে। (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ১২৪)

মা-বাবার দোয়া : যা সন্তানের জীবনের অদৃশ্য নিরাপত্তা। আসলে একজন সফল মুসলিম মা-বাবা সেই ব্যক্তি নন, যিনি সন্তানকে শুধু বিপুল সম্পদ দিয়ে যান; বরং তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি এমন সন্তান রেখে যান, যে আল্লাহকে ভয় করে, সম্মান নিয়ে জীবনযাপন করে, অন্যের মুখাপেক্ষী হয় না এবং নিজের সম্পদ, জ্ঞান ও চরিত্র দিয়ে মানুষের উপকার করে। এমন সন্তানই দুনিয়ায় পরিবারের মর্যাদা বাড়ায় এবং মৃত্যুর পর মা-বাবার জন্য সদকায়ে জারিয়া হয়ে থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ৪১১৫)