সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
জান্নাত এমন এক আবাস, যেখানে প্রতিটি নিয়ামত হবে সীমাহীন ও চিরস্থায়ী। জান্নাতবাসীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে এবং তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান ও অনন্ত সুখ লাভ করবে।
পৃথিবীর সকল দুঃখ-কষ্ট তখন তাদের কাছে অতীতের একটি ক্ষণিক স্মৃতি মাত্র হয়ে থাকবে। সেখানে থাকবে না কোনো অশান্তি, কষ্ট, বিচ্ছেদ বা অপূর্ণতা। এমনকি সেখানে প্রতিটি নিয়ামত হবে পরিপূর্ণ, প্রতিটি মুহূর্ত হবে আনন্দময় এবং প্রতিটি বাসিন্দা থাকবে চিরস্থায়ী শান্তি ও প্রশান্তিতে। মহান আল্লাহ কোরআনে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) সহিহ হাদিসে জান্নাতের অসংখ্য নিয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন, যা একজন মুমিনকে নেক আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে।

জান্নাতে যেসব জিনিস থাকবে না
১. দুঃখ, ভয় ও চিন্তা থাকবে না : মহান আল্লাহ বলেন,
بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُۥٓ أَجْرُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
‘যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে এবং সৎকর্মশীল হয়, তার জন্য তার রবের কাছে রয়েছে প্রতিদান। তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সুরা : বাকারা : আয়াত : ১১২)
২. রোগ, ক্লান্তি ও অবসাদ থাকবে না : আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُم مِّنْهَا بِمُخْرَجِينَ
‘সেখানে কোনো ক্লান্তি তাদের স্পর্শ করবে না এবং সেখান থেকে তাদের কখনো বের করা হবে না।’ (সুরা : হিজর : আয়াত : ৪৮)
অন্য হাদিসে এসেছে, জান্নাতবাসীদের ঘুমেরও প্রয়োজন হবে না; কারণ ঘুম ক্লান্তির ফল, আর জান্নাতে কোনো ক্লান্তিই থাকবে না।
৩. হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা থাকবে না : জান্নাতবাসীদের হৃদয় হবে সম্পূর্ণ পবিত্র। সেখানে কেউ কারো প্রতি হিংসা, ঘৃণা বা শত্রুতা পোষণ করবে না। মহান আল্লাহ বলেন,
وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّ
‘আমি তাদের অন্তর থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেব।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৪৩)
৪. গুনাহ, অশ্লীলতা ও অনর্থক কথা থাকবে না : আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا
‘সেখানে তারা কোনো অসার বা পাপপূর্ণ কথা শুনবে না। তারা কেবল শুনবে—সালাম, সালাম।
’ (সুরা : ওয়াকিআহ, আয়াত : ২৫–২৬)
৫. শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা থাকবে না : জান্নাত হলো সম্পূর্ণ পবিত্র আবাস। সেখানে শয়তানের কোনো প্রবেশাধিকার থাকবে না এবং তার কোনো প্ররোচনাও থাকবে না। ফলে জান্নাতবাসীরা চিরকাল নিরাপদ ও প্রশান্তিতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
اُدۡخُلُوۡهَا بِسَلٰمٍ اٰمِنِیۡنَ وَ نَزَعۡنَا مَا فِیۡ صُدُوۡرِهِمۡ مِّنۡ غِلٍّ اِخۡوَانًا عَلٰی سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِیۡنَ لَا یَمَسُّهُمۡ فِیۡهَا نَصَبٌ وَّ مَا هُمۡ مِّنۡهَا بِمُخۡرَجِیۡنَ
‘(তাদেরকে বলা হবে,) তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাতে প্রবেশ কর। আমি তাদের অন্তরে যে ঈর্ষা থাকবে তা দূর করে দেব; তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে। সেখানে তাদেরকে অবসাদ স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখান থেকে বহিস্কৃতও হবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৬–৪৮)
৬. বার্ধক্য ও মৃত্যু থাকবে না : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلَا تَمُوتُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلَا تَسْقَمُوا أَبَدًا، وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا أَبَدًا
‘হে জান্নাতবাসীগণ! তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, কখনো মৃত্যু হবে না; তোমরা সর্বদা সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না; তোমরা সর্বদা যুবক থাকবে, কখনো বার্ধক্যে উপনীত হবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৭)
৭. ক্ষুধা, তৃষ্ণা, অভাব ও দারিদ্র্য থাকবে না : মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَى وَأَنَّكَ لَا تَظْمَؤُا فِيهَا وَلَا تَضْحَى
‘নিশ্চয়ই সেখানে তোমার ক্ষুধার্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই, নগ্ন থাকারও নয়। সেখানে তোমার তৃষ্ণার্ত হতে হবে না এবং রৌদ্রের কষ্টও ভোগ করতে হবে না।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১১৮–১১৯)
অতএব, আমাদের উচিত ঈমান, তাকওয়া, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, সৎকর্ম এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে জান্নাতের উপযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে কবুল করুন। আমিন।









